জাবিতে শহীদ কবির ও তুষারের শাহাদাত বার্ষিকীতে ছাত্রদলের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল © সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রদলের উদ্যোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা শহীদ হাবিবুর রহমান কবিরের ৩৭তম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম তুষারের ১০ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হল জামে মসজিদে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহাম্মেদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর, সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনিক, শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, মৃত্যুর পর মানুষের জন্য জীবিতদের দোয়া সবচেয়ে বড় উপহার। তিনি শিক্ষার্থীদের অহংকার, প্রতিহিংসা ও সহিংসতা পরিহার করে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ধারণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের সূরা আল-মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল; আর যে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।” এ আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে উপাচার্য বলেন, ইসলাম কখনো নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি সমর্থন করে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহিংসতা, প্রতিশোধপরায়ণতা ও বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মানবিক, দায়িত্বশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়, এটি মানুষ হওয়ারও জায়গা। তাই মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবাইকে কাজ করতে হবে।
বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, জাকসু নির্বাচন সামনে রেখে এখন থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। যদি এখন থেকেই কাজ না করা হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতৃত্ব আবার একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের হাতে চলে যেতে পারে। আমরা সেটি দেখতে চাই না। ছাত্রদলকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে হবে। হলভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করলে হবে না, মাঠে থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নেতৃত্বকে সম্মান করতে হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমরা কোনো ধরনের মব কালচার চাই না। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেটি সহিংসতার মাধ্যমে নয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সবাই নিরাপদে রাজনীতি ও শিক্ষাচর্চা করতে পারবে।
এসময় জাবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাজু আহাম্মেদ বলেন, আজ তাঁদের শাহাদাত বার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁদের স্মরণ করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। তাঁদের অসমাপ্ত স্বপ্ন ও আদর্শকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র, ন্যায় ও শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব।
মহান আল্লাহ তায়ালা শহীদ হাবিবুর রহমান কবির ও শহীদুল ইসলাম তুষারকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন এবং তাঁদের পরিবারকে এই শোক বহন করার শক্তি দান করুন। আমিন।
শেষে ছাত্রদলের নেতারা দুই শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পরে দুই শহীদের রুহের মাগফেরাত এবং দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ১৫ আগস্ট ছাত্রশিবিরের ‘হামলা’য় গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শহীদ সালাম-বরকত হলের আবাসিক ছাত্র এবং ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান কবির। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ আগস্ট তিনি শাহাদাত বরণ করেন। অপরদিকে, ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট শহীদ কবিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেইরি গেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম তুষার। প্রতি বছর তাঁদের শাহাদত বার্ষিকীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের স্মরণ করে।