জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর মন্তব্য ও পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মো. তানজিম হোসেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রক্টরের কাছে অভিযোগটি দেন তানজিম। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (৫৩তম আবর্তন) শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে তানজিম উল্লেখ করেন, দিহান সাদনান হাসান (সিএলসি-৫৩তম আবর্তন) তার ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মানহানিকর মন্তব্য ও পোস্ট করেছেন। এসব পোস্ট ও মন্তব্যে তার সম্পর্কে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তানজিমের অভিযোগ, কোনো প্রমাণ বা সত্যতা যাচাই ছাড়াই তার সম্পর্কে ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। এতে সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাঁকে নিয়ে নেতিবাচক ও ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিষয়টি তাঁর স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও মানসিক স্বস্তিতে প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে মানহানি করার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির ২ নম্বর ধারার ‘গ’ অনুচ্ছেদের ‘অসদাচরণ’-এর সংজ্ঞার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যের স্ক্রিনশট, পোস্টের লিংক এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
তানজিম হোসেন বলেন, দিহান আমার নামে যেভাবে পোস্ট দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে আমি নাকি রুমে কোনো মহিলা নিয়ে গিয়েছি। এরপর আবার কমেন্টে লিখেছে, সম্প্রতি ১৪-১৫ বছরের একটি মেয়েকে আমার রুমে দেখেছে। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর আমি গুরুতর অসুস্থ থাকায় আমার বাবা-মা আমাকে দেখতে হলে এসেছিলেন। তখন প্রভোস্ট স্যার ও হল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুমতি নিয়ে অল্প কিছু সময়ের জন্য তারা আমাকে দেখতে এসেছিলেন। কিন্তু প্রায় এক বছর পর ওই ঘটনাটিকে এভাবে পোস্ট করা হয়েছে, যাতে আমার বিরুদ্ধে সবার মধ্যে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়। তাছাড়া আমাকে নেশাগ্রস্ত বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া কীভাবে সে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করতে পারে? এ কারণে আমি প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেছি। আমাকে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে আমার সম্মানহানি হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে ২৫ আগস্ট দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে দিহান সাদনান হাসান লেখেন, আইআর ৫৩-এর তানজিম কার সাহায্যে ছেলেদের হলের ৫ তলায় মহিলা মানুষ আনে? এই অথরিটি ওরে দিয়েছে কে? আজকে বললো বশির ভাই নাকি নিয়ে আসছে! হলের দায়িত্বে থাকা মানুষের কি সামান্য কাণ্ডজ্ঞান নাই? ছেলেদের হলে যদি শুধু নিজ এলাকার হওয়ার খাতিরে বশির ভাই মহিলা মানুষকে ৫ তলায় নিয়ে আসে, তাহলে আমাদের প্রাইভেসি থাকে কই?
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, আর ওরে একটু নজরে ও রাখা দরকার, দুইদিন পরপর মারমুখী হওয়ার কারণ খোঁজা দরকার, সন্দেহভাজন শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করা দরকার বাকিদের নিরাপত্তায়।
পোস্টের শেষে তিনি হল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তানজিম ও সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে দিহান সাদনান হাসান বলেন, অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। প্রক্টর অফিস থেকে আমাকে জানানো হলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব।
ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে তিনি বলেন, পোস্টের মাধ্যমে আমি আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছি। ঘটনাটি নাকি গত বছরের ১১ নভেম্বরের, এটি তানজিম ওই পোস্টে নিজে কমেন্ট করে স্বীকার করেছে। তবে যতটুকু আমার মনে পড়ে, এটি সাম্প্রতিক আরেকটি কোনো ঘটনা।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, অভিযোগপত্রটি ছুটির দিনে প্রদান করা হয়েছিল। এ কারণে সেটি আমার হাতে পৌঁছায়নি। আজ অভিযোগপত্রটি হাতে পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।