টেন্ডারকাজ হাতে নিয়ে সেটি আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে। © টিডিসি সম্পাদিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাহ আমানত হলের মসজিদের সংস্কারের ১৫ লাখ টাকার টেন্ডারকাজ হাতে নিয়ে সেটি আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক অডিওর কথোপকথনে বিষয়টি উঠে এসেছে। সেখানে চবির প্রকৌশলী, আমানত হল ছাত্রসংসদ ও চবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নোমানকে কথা বলতে শোনা গেছে।
জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ৫-৬ মাস আগে চবির শাহ আমানত হলের মসজিদ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে হঠাৎ এক অদৃশ্য কারণে কাজটি থমকে যায়। এ নিয়ে ওই হলের ছাত্রসংসদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে কাজটি আবার পুনঃরায় চালু করানোর চেষ্টা করান।
হল সংসদের নেতারা জানান, সংস্কার কাজটি যেন পুনরায় চালু হয় এবং হলের শিক্ষার্থীরা যেন নিয়মিত নামাজ আদায় করতে পারেন সেই সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রুত তাগিদ দিচ্ছিলেন তারা। এর আগে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের হল প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত মিটিংয়ে ভিসিসহ হলটির প্রভোস্ট ও চবির প্রকৌশল দপ্তরের সবজায়গায় সংস্কারের কাজটি সচল রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। কিন্তু এরপরেও কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকৌশল দপ্তরে হাজির হয় আমানত হল সংসদের নেতৃবৃন্দ।
তাদের দাবি, মসজিদ সংস্কারের কাজটির অগ্রগতি জানতে প্রকৌশলী মুঠোফোন দিয়ে একজনকে ফোন করেন। অপর পাশ থেকে ফোনটি রিসিভ করেন চবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান। এরপর মুঠোফোনে প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদল সেক্রেটারি নোমান বলেন আগামীকাল থেকে কাজটি শুরু করবেন তিনি।
চবির আমানত হল সংসদ ছাত্রসংসদের জিএস আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমি যতটুকু শুনেছি মসজিদ সংস্কারের কাজটি সম্ভবত ১৫ লাখ টাকা। তবে এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার অফিস খুব ভালো বলতে পারবে। পরে মুঠোফোনে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চবি প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর প্রধান।’
হলটির জিএস আবিদুর আরও বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজী ও যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের হল সংসদের সর্বোচ্চ অবস্থান রয়েছে। একটা ছাত্র সংগঠনের কাজ টেন্ডারবাজি করা না। একজন শিক্ষার্থীর কাজ হচ্ছে পড়াশোনা করা ও জাতির জন্য কাজ করা। যারা চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজীর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নোমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে এ বিষয়টি নিয়ে আমার কোন কথা হয়নি। এ বিষয়টি একটি ভুয়া রেকর্ড, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগতও নই।’
চবির প্রকৌশলী সৈয়দ জাহাঙ্গীর প্রধান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শফিউল কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি আমাকে যে নাম্বার দিয়েছে, আমি ওই নাম্বারে ফোন করেছি। এটা কে, আমি তো জানিনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যা ছড়াচ্ছে, ছড়াতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমানত হল সংসদের ছেলেরা আসছিল, ওরা জানতে চেয়েছে কাজ বন্ধ কেন। আমি ওটার জবাব দিয়েছি, তাদের সাথে কন্ট্যাক্ট করেছি। বলেছে কাল থেকে আরম্ভ হবে। এখন এই ব্যক্তি কে, উনি কোন দল করে, এটা তো আমি জানি না। এটা নিয়ে সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশও নেই। আমি শফিউল কনস্ট্রাকশনের সাথে কথা বলেছি।’
এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রদলের ‘ক্রমাগত টেন্ডারবাজি’ ও ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে মিছিল করে সংগঠনটি।
মিছিল থেকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ক্যাম্পাসে টেন্ডারবাজি ও যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানান। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।