ভুলে ভরা প্রাথমিকের বই, বিভ্রান্তিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০৭ AM

© সংগৃহীত

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২০ সালের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বইগুলো ভুলে ভরা। বইয়ের কোথাও অধ্যায়ের অর্ধেক নেই আবার কোথাও এক পৃষ্ঠার সঙ্গে অপর পৃষ্ঠায় মিল নেই। এসব বই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের পড়াতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন শিক্ষকরা। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

জানা গেছে, সারাদেশে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এবং প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স লি. মুদ্রিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশু শিক্ষার্থীদের বছরের শুরুতেই বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। সরকারের দেওয়া এসব বই ভুলে ভরা থাকায় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। চতুর্থ শ্রেণির 'আমার বাংলা' বইয়ে ৭০ পৃষ্ঠার পর এক লাফে পৃষ্ঠা চলে গেছে ১০৩ পৃষ্ঠায়। সূচিপত্র অনুযায়ী ৭১ পৃষ্ঠায় 'পাঠান মুলুকে' অধ্যায় থেকে এক লাফে ১০১ পৃষ্ঠায় থাকা 'শব্দের অর্থ জেনে নিই' অধ্যায়ে চলে গেছে। সেখানে দেখা গেছে, ১০৩ পৃষ্ঠায় 'অ, আ, ক, খ' বাদ দিয়ে 'ট' থেকে শুরু করা হয়েছে। মাঝে থাকা ৩০ পৃষ্ঠায় ৮টি অধ্যায় নেই, অধ্যায়গুলো হচ্ছে- পাঠান মুকুলে, মা, ঘুরে আসি সোনারগাঁও, বীরপুরুষ, পাহাড়পুর, লিপির গল্প, খলিফা হযরত উমর (রা.) ও শব্দের অর্থ জেনে নেই-এর আংশিক। একই ভাবে পঞ্চম শ্রেণির 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে ১০ পৃষ্ঠার পর ২৭ পৃষ্ঠায় চলে গেছে। মাঝে না থাকা ১৬ পৃষ্ঠায় সূচিপত্র অনুযায়ী সেখানে 'আমাদের মুক্তিযুদ্ধ' অধ্যায়ের আংশিক, ব্রিটিশ শাসন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শনের আংশিক অধ্যায় নেই। এছাড়া পঞ্চম শ্রেণির 'প্রাথমিক গণিত' বইয়ে দেখা গেছে, ৯২ পৃষ্ঠার পর এক লাফে ১০৯ পৃষ্ঠায় চলে গেছে। সূচিপত্র অনুযায়ী মাঝে থাকা ১৬ পৃষ্ঠায় শতকরার পুরো অধ্যায় এবং জ্যামিতির অধ্যায়ের কিছু অংশ নেই। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ২৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে ভুলে ভরা এসব বই বিতরণ হওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।

শিক্ষার্থী অভিভাবক রহমত আলী, ফারুক হোসেন, মান্নান মিয়া, মোস্তফা কামালসহ অনেকে জানান, বছরের শুরুতেই কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই পেয়ে আনন্দিত হওয়ার কথা কিন্তু সেখানে বইগুলোতে ভুল থাকা এবং এক পৃষ্ঠার সঙ্গে অপর পৃষ্ঠার মিল না থাকায় তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরও বলেন, সরকারের এ মহৎ উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অবহেলার কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে।

উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বইয়ে অসঙ্গতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ২০২০ সালের নতুন বইয়ে এ সমস্যা উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসকে অবগত করেছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোজম্মেল হক শাহ্‌ জানান, এ বিষয়ে শিক্ষকরা তাকে মৌখিকভাবে অবগত করলে তিনি লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন। লিখিত পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তা তিনি পাঠাবেন।

শিক্ষার্থীকে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ কর্মচারীর বিরুদ্ধে, উল্টো…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
রোল-রেজিস্ট্রেশন-সেট কোড ভুল হলে সংশোধন যেভাবে, জানাল বোর্ড
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
গ্রেট স্কলারশিপ নিয়ে পড়ুন যুক্তরাজ্যে, আবেদন স্নাতকোত্তরে
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
১-১৮তম নিবন্ধনধারীদের চিঠির বিষয়ে যা বলছে মন্ত্রণালয়
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
পিএসসির নিয়োগে মেধার সঙ্গে নৈতিকতা যাচাই চান ইউজিসি চেয়ারম্…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বকাপের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬