বাগাদী গণি উচ্চ © টিডিসি ফটো
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও মোবাইল ফোনে ভিডিয়ো ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হাসান গাজি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছেন। অথচ এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ নেওয়ার বদলে উলটো তার বিরুদ্ধেই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের। জানা যায়, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে স্কুল এলাকার বাইরে পেয়ে হাসান গাজী মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন এবং তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসান গাজী রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে এমন অশালীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ঘটনার পরদিন ৭ এপ্রিল হাসান গাজী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল হাসানকে চাপ দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা করান। হাসান গাজি নিজেকে স্থানীয় যুবলীগ ও যুবদলের নেতা পরিচয় দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করেন বলে জানা গেছে। তার ভয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তটস্থ ও জিম্মি হয়ে আছেন।
তবে পরিস্থিতির মোড় ঘোরে যখন প্রধান শিক্ষক নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হাসান গাজি তাকে জোর করে থানায় নিয়ে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করেছেন। প্রাণের ভয়ে তিনি তখন স্বাক্ষর দিলেও এখন তিনি এই অনৈতিক কাজের বিচার চান। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম.এন. জামিউল হিকমত জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। তবে অভিযোগের প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, একজন নৈশ প্রহরী হয়ে হাসান গাজি যেভাবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন ও ব্ল্যাকমেইল করছেন, তা চরম অপরাধ। অভিভাবকরা দ্রুত এই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।