১১তম গ্রেড নিয়ে হাইকোর্টের রুল, আশা সঞ্চার

০৭ জুলাই ২০১৯, ০৭:০৩ PM

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের ১৪তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের গেজেট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন কেন ১১তম গ্রেডে প্রদান করা হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

এই রুল প্রাথমিক ও গণশিক্ষ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এফ.আর. এম নাজমুল আহসান এবং বিচারপতি কে.এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া এবং তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম রাহুল ও অ্যাডভোকেট সোহরাওয়ার্দী সাদ্দাম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ গেজেট জারি করা হয়েছিল।

১১তম গ্রেড নিয়ে এখনো অন্ধকারে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা

১১তম গ্রেডে বেতন প্রদান ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি পালনের কথাও জানিয়েছেন তারা। তবে এখনো এ ব্যাপারে অন্ধকারেই রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শিগগিরই এ ব্যাপারে কোন সরকারি সিদ্ধান্ত না হলে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে বলে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেরা বেগম জানিয়েছেন।

১১তম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। এছাড়া গত ১৪ মার্চ দেশব্যাপী একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরপরও দাবি আদায় না হওয়ায় বৃহৎ কর্মসূচির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তারা।

এই দাবির আদায়ের ব্যাপারে বর্তমানে সরকারের অবস্থান নিয়ে এখনো অন্ধকারেই রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এছাড়া তাদেরকে ১২তম গ্রেডে বেতন দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনের কথাও জানিয়েছেন। তবে এটি মেনে নেবেন কিনা সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি শিক্ষকরা।

এ ব্যাপারে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস’র সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেরা বেগম বলেন, ‘আমরা যতদূর জানতে পেরেছি- সিলেটের একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, সহকারী থানা শিক্ষা অফিসারদেরকে (এটিইও) নবম গ্রেড এবং প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকদেরকে ১১তম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদেরকে ১২তম গ্রেড দেওয়া হতে পারে বলে আমরা শুনেছি।’

১২তম গ্রেড দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকরা মানবেন কিনা জানতে চাইলে সাবেরা বেগম বলেন, ‘এ ধরণের কথা শোনা গেলেও তা এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন তথ্য পেলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এখনই শোনা কথায় আন্দোলন করার তো কোন মানে হয় না।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষকদের ৭-৮টি সংগঠন রয়েছে। তাদের কারোর সঙ্গেই এখনো এ ব্যাপারে বসা হয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং আমাদের সংগঠনে নেতারা বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া সামনে রমজান মাসের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হবে।’

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল থেকে এ দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

অবশ্য সম্প্রতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষকদের বঞ্চিত করে বেতন আপগ্রেডের কোনো ঘোষণা আসবে না। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সে সময়ও দাবি ছিল, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণ। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে আয়োজিত ওই অনশন কর্মসূচিতে জোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছিলেন।

বৈষম্য নিরসনে চার দফা দাবি: বেতন বৈষমস্য দূর করতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক মহাজোট। দাবিগুলো হচ্ছে- সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন পুনঃনির্ধারণ, নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে পুরুষ ও মহিলা- উভয়ের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রী নির্ধারণ, সরাসরি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে সহাকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতির ব্যবস্থা এবং সিএনডি/ডিপিএড ও বিএড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন উন্নীত স্কেলে বেতন নির্ধারণ। প্রাথমিকে মানুষ গড়ার কারিগর তথা সহাকারী শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে এই দাবিগুলো কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বৈশাখী মেলার প্রস্তুতিতে সরগরম ময়মনসিংহের পালপাড়া
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
মাদ্রাসার এমপিওভুক্তর উৎসব ভাতার চেক ছাড়
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জাবিতে স্টিকারবিহীন যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংসদে উপস্থাপিত ‘ভুল তথ্যের’ জবাব দিলেন সদ্যবিদায়ী ৫ কমিশন…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬