১১ বছর অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, একজন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী অন্যজন ভাইয়ের

৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৭ AM
মুক্তিযোদ্ধা স্কুল

মুক্তিযোদ্ধা স্কুল © টিডিসি ফটো

ময়মনসিংহের নান্দাইলে নিয়োগের ১১ বছর পার হলেও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত দুই শিক্ষিকার নাম নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে একটি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকার একজন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী এবং অপরজন তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী।

উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের হালিউড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই দুই শিক্ষিকাকে তারা কখনো বিদ্যালয়ে দেখেনি। অথচ হাজিরা খাতায় নিয়মিত তাদের উপস্থিতির স্বাক্ষর রয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ২০০২ সালে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে এটি নিম্ন মাধ্যমিক এবং ২০২২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষকের পিতা ও তৎকালীন সভাপতি আব্দুল মালেক তার দুই পুত্রবধূ কামরুন নাহার সুধা ও মাহমুদা আক্তারকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি থাকলেও ওই দুই শিক্ষিকাকে পাওয়া যায়নি। হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরে অন্য এক শিক্ষকের মাধ্যমে হাজিরা খাতা আনানো হলে সেখানে অনুপস্থিত শিক্ষিকাদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই শিক্ষিকার বেতন-ভাতা চালুর জন্য জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে আবেদনও করেছেন প্রধান শিক্ষক। একই সঙ্গে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করায় ২০১৯ সালে এ কে এম মোশাররফ হোসেন নামের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলে, ‘দুই শিক্ষিকা প্রধান শিক্ষকের পরিবারের লোকজন থাকায় তারা বিদ্যালয়ে আসেনা কোন দিন। হাজিরা খাতায় আবার দেখবেন তাদের স্বাক্ষর আছে। আমরা কিছু বললে আমাদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দিবে।’

দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ওই দুই শিক্ষিকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘দুজন শিক্ষিকা ২০১৫ সালে নিয়োগ হয়েছে, তবে তারা মাঝে মধ্যে আসে। বেতন ভাতা চালু হয়নি তো আর স্কুল থেকেও কিছু পায়না।’ পরে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একজন নিজের স্ত্রী, অপর জন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী!’

নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন হলে বিষয়টি অপরাধ।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘নিয়োগ পেয়েও যদি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে সেটি খুবই গুরুতর অপরাধ। এ বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।’

ময়মনসিংহ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহছিনা খাতুন বলেন, ‘লোকাল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহা. নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বেতন ভাতা চালুর জন্য আবেদন করেছিল সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।’

বড় চমক দেখাল ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, দুইদিনে ফলোয়ার ছাড়…
  • ২১ মে ২০২৬
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির, ভোক…
  • ২১ মে ২০২৬
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা
  • ২১ মে ২০২৬
নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, নোবিপ্রবিতে …
  • ২১ মে ২০২৬
পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বন্ধ ইজারা কার…
  • ২১ মে ২০২৬
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি কতখানি?
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081