শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ
১১তম গ্রেড দাবিতে একাট্টা অবস্থান নিয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় ২০ মে থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবে সহকারী শিক্ষকরা; যা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের ব্যানারে চারটি সংগঠনের শিক্ষকরা একযোগে এ কর্মসূচি পালন করবেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, এবারের কর্মসূচি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, ১১তম গ্রেড নিয়ে সরকার এক ধরণের টালবাহানা করছে। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীও অন্তত ৭বার আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই। তাই শিক্ষকরা রমজানের মধ্যেই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। ১৯ মে’র মধ্যে দাবি মানা হলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেবেন বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে শিক্ষক নেতা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ লিখেছেন, ‘আপনার অধিকার অন্য কেউ আদায় করে দেবে না, আপনাকেই আদায় করে নিতে হবে। তাই নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন, অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসুন। ২০ মে থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থান নিশ্চিত করুন।
এর আগে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির এই সভাপতি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা ছয় বছর ধরে মন্ত্রী থেকে শুরু করে সব জায়গায় আমাদের দাবি জানিয়েছি। সর্বশেষ আওয়ামীলীগের ইশতেহারেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও দাবি মানা হয়নি।’
সূত্রের তথ্য, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সে সময়ও দাবি ছিল, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণ। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে আয়োজিত ওই অনশন কর্মসূচিতে জোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছিলেন।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের এই পরিবর্তনে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদটি চান না। তারা মনে করছেন, এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেলেই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন চান।
পড়ুন:প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচির পরিবর্তন প্রসঙ্গে
প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক বেতন পান ১২ তম গ্রেডে (১১৩০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১১তম গ্রেডে (১২৫০০ টাকা বেতন স্কেল)। আর প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষক ১৫ তম গ্রেডে (৯৭০০ টাকা বেতন স্কেল) এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক ১৪তম গ্রেডে (১০২০০ টাকা বেতন স্কেল) বেতন পান।