শিক্ষাস্তরের মূল ভিত্তি বলা হয় প্রাথমিক শিক্ষাকে। জাতি বা রাষ্ট্রের ভিত্তি মজবুত করতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নাই। জাতীয় উন্নয়নে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে; তাদের মধ্যে অন্যতম হল প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক।
আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করি, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধেও প্রতিটি গ্রামে, মহল্লায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক পদটি রাষ্ট্রের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী!
ভাবতেই কষ্ট পাই আজ আমরা নিজ বিদ্যালয়ে চরম বৈষম্যের শিকার। স্বাধীনতার পর ধাপে ধাপে প্রধান শিক্ষকদের সাথে বেতন বৈষম্য বাড়তে বাড়তে এখন তিন ধাপ বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ২০১৪ সাল থেকে এই বেতন বৈষম্য কমানোর জন্য দাবি করে আসছি এবং আমাদের মন্ত্রী মহোদয় ও সচিব মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আমাদের দাবির সাথে একমত পোষণ করেছেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে সহকারি শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নির্বাচনে অন্য ডিপার্টমেন্টের কর্মচারীদের সাথে তুলনা করার কথা বলা হচ্ছে; যা আমাদের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ সহকারি শিক্ষকদের হতাশ করেছে। যারা জাতি বা রাষ্টের ভীত গড়ে তাদের বেতন নির্ধারণে অন্য সরকারি চাকুরিজীবিদের সাথে তুলনা করতে হবে কেন? আমরা সাড়ে তিন লক্ষ সহকারি শিক্ষক আজ একটি দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ১১ তম বেতন গ্রেড চাই। আমরা কারো সাথে তুলনা চাই না। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে পেতে চাই।
আমরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের বৈষম্য নিরসনের জন্য আন্দোলন করেছি, স্মারকলিপি দিয়েছি এবং আমাদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছি। উর্ধবতন কর্তৃপক্ষও আমাদের দাবির প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু কোন অজানা কারনে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না!
আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানাই, আপনার নির্বাচনী ইশতেহার ও ভয়েস কল অনুযায়ী আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আপনার সূদৃষ্টি কামনা করি।
লেখক: কাজি আবু নাসের আজাদ, সভাপতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক অনলাইন সমিতি।