ভাই লক্ষ্মীরামের সঙ্গে মালা সোরেন © আনন্দবাজার
সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরী মালা সোরেন। বয়স ১৩ বছর। আদিবাসী এই ছাত্রীর স্বপ্ন একটাই, ‘পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষিত হওয়া।’ কিন্তু একমাত্র সেই স্বপ্নপূরণে নিজ বাবাই যখন বাধা; তখন আর তার অধীনে থাকার যৌক্তিকতা নেই। মালা সেটা বুঝেছে। পড়বে বলে বাড়ি ছেড়েছে পড়িহাটির জামবনির তেঁতুলিয়ার এই আদিবাসী কিশোরী। নতুন ঠিকানা এখন ঝাড়গ্রাম শহরের বেনাগেড়িয়ায় পিসির বাড়ি।
মালা জানায়, তার বাবা বিশ্বনাথ সোরেন নেশা করলেই অন্য মানুষ হয়ে যায়। তাকে স্কুলে আসতে দেয় না, পড়তে দিতে চায় না। বই ছুড়ে ফেলে দেয়। বাড়িতে বাবার কাছে থাকলে চিরজীবনের মতো পড়াশোনা ছাড়তে হবে। তাই সে আগের স্কুল ছেড়ে দূরের কোনো স্কুলে ভর্তি হতে চায়। সূত্রের তথ্য, মালা শুধু নিজে আসেননি, ভাই লক্ষ্মীরামকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন।
মালার ঠাকুমা টুসু সোরেন, ‘‘আমরা লেখাপড়া শিখিনি। কিন্তু নাতনি শিক্ষার মর্ম বুঝেছে।’’
তবে আশার কথা হলো- মালার এমন লড়াইয়ে পাশে আছেন তার পিসি সুন্দরী বাস্কের স্বামী। সুন্দরী বলেন, ‘‘শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি স্কুলে ভর্তি করা খুব কঠিন। জানি না কী হবে।’’ তবে জেলা শাসক আয়েষা রানি মালার কথা জেনেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছে, ‘‘আবেদন করলে বিনা বেতনে সরকারি আবাসিক স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।’’
প্রসঙ্গত, এর আগে মালার স্কুল ছিল তেঁতুলিয়া লাগোয়া বিনপুরের এড়গোদা নিত্যানন্দ বিদ্যায়তন। ইতোমধ্যেই সেখান থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) নিয়ে নতুন স্কুলের খোঁজ চলছে। [আনন্দবাজার অবলম্বনে]