বিদেশে পড়ার স্বপ্ন, মুখের হাসি কেড়ে নিচ্ছে করোনা

১৮ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৪ AM
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে শিক্ষার্থীরা পাড়ি জমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে © প্রতীকী ছবি

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকে অনেক শিক্ষার্থীর। সেই স্বপ্নের টানে প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাড়ি দেন ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এখন তাদের সেই স্বপ্নে বাঁধ সেধেছে বৈশ্বিক মাহামারী নভেল করোনাভাইরাস। স্কলারশিপ পেয়েও উচ্চশিক্ষার জন্য যারা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তারা এখন হতাশ।

দেশে চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বিধিনিষেধ পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দূতাবাস ভিসা আবেদন বন্ধ রেখেছে। আর নতুন করে ভিসা ইস্যু করছে না দূতাবাসগুলো। ফলে যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে চায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

জানা গেছে, প্রতি বছর ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা অর্জনে পাড়ি দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকে স্কলাশিপ নিয়ে বিনা খরচে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছেন। পড়ালেখা শেষে কেউ কেউ সেসব দেশে নিজের ক্যারিয়ারও গড়ে তুলছেন।

একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন থেকে শুরু করে ভিসা আবেদনে খরচ হয় এক থেকে দুই লাখ টাকা। অনেকে ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে থাকেন ফান্ডিংয়ের আশায়। কিন্তু যখন ফান্ডিং নিশ্চিত, তখন শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি কেড়ে নেয় ভিসা না পাওয়ার দুশ্চিন্তা।

সূত্র মতে, করোনার কারণে গত বছরও মাস্টার্স ও পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং স্কলারশিপ পেয়েও ভিসা জটিলতায় যেতে পারেননি অনেক শিক্ষার্থী। চলমান লকডাউনের একই পরিস্থিতি এবছরও। 

আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামার, ফল ও স্প্রিং- এই তিন সেমিস্টারে বাংলাদেশ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করেন। তাদের একটি বড় অংশ ফুল ফান্ডিং নিয়ে পড়াশোনা করতে যান সেখানে। এই শিক্ষার্থীদের এখন বড় উদ্বেগ বিষয় ঠিক সময়ে ভিসা পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে। তাদের অনেকেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যলয়ের পৌঁছার কার্যক্রমের অগ্রগতি হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভিসা প্রদানে দূতাবাসের কার্যক্রম সচল রাখার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

আমেরিকান ভিসা প্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে পাস করা শিক্ষার্থী জ্যোতির্ময় সাহা বলেন, করোনার কারণে দুইবার আমার ভর্তি পিছিয়েছি। প্রথমবার ফল ‘২০ থেকে স্প্রিং ‘২১ এ, আর এখন ফল ‘২১ এ। আমার প্রফেসর আমাকে দুইবার ছাড় দিয়েছেন, কিন্তু এবার না যেতে পারলে আমার ফান্ডিং বাতিল হওয়ার শংকা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাই ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তানিন যায়েদ বলেন, সঠিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌঁছাতে না পারলে তাদের ডিফার করতে হয়। সেক্ষেত্রে এক সেমিস্টারে ভর্তি হতে না পারলে পরবর্তী সেমিস্টারে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে। তবে কতবার ডিফার করা যায় সেটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভর করে। এছাড়া ফান্ডিংয়ের বিষয়টিও একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্ধারণ করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রামণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, আমেরিকাতেও একই অবস্থা। বৈশ্বিক এই মহামারির কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করছেন। যারা আসতে পারেনি, হয়তো তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।‌

আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ পাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আগামী মে থেকে আমার ক্লাস শুরু। সময়মতো উপস্থিত হতে না পারলে আমার ফান্ডিং চলে যাবে। অন্যদিকে প্রফেসরেরাও তাড়া দিচ্ছেন আমার অবস্থা জানাতে, যাতে করে আমি না গেলে আমার জায়গায় অন্য কাউকে ফান্ডিং দিতে পারেন। এখন চলমান লকডাউনে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ। আমার মতো আরো অনেক শিক্ষার্থীই এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ভিসা জটিলতায় ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিতে না পারা কিংবা ডেফারেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই মুহূর্তে শতাধিক। এটা তাদের শেষ সুযোগ। তাদের একজন বলেন, ক্যাম্পাসে ঠিকসময়ে পৌঁছাতে না পারায় আমাকে ডিফার করতে হয়। পুরো ব্যাচে একমাত্র আমিই ডিফার করতে বাধ্য হয়েছি। আর স্প্রিং সেশনে ডিফার করার অপশন ছিল না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তাই আমাকে আবার ফল ‘২১-এর অপেক্ষায় থাকতে হয়। একটা বছর অপেক্ষায় থাকার পর আমার সামনে আবার সেই জটিলতা। আমার মতো শতাধিক শিক্ষার্থী ‘২১-এ ডিফার করতে বাধ্য হয়েছে। এ বছরই আমাদের জন্য শেষ সুযোগ। কেননা অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার ডেফারেলের সুযোগ দেয় না, বা দিলেও ফান্ডিং পাওয়া যায় না।

ভিসা সংকট নিরসনে উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে একসাথে হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোন সুরাহা হয়নি। আর আমেরিকান দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, সরকার থেকে কোন ধরণের অনুমতি না পেলে তারা এ ব্যাপারে কোন সমাধান করতে অপারগ।

ব্যানার ছেঁড়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখোমুখি ছাত্রদল-হল …
  • ০৫ মে ২০২৬
প্রবাসে শক্তি বাড়াতে ‘গ্লোবাল ডায়াস্পোরা সেল’ গঠন করল এনসিপ…
  • ০৫ মে ২০২৬
ঈদের আগেই হতে পারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি
  • ০৫ মে ২০২৬
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের যুগে প্রবেশ করল ত…
  • ০৫ মে ২০২৬
ফেলোশিপ নিয়ে পোস্ট-ডক্টরেট করার সুযোগ জার্মানিতে, করুন আবেদন
  • ০৫ মে ২০২৬
জয়েন্ট জাপান-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক স্কলারশিপে স্নাতকোত্তরের সুযোগ…
  • ০৫ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9