দুই কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপে’ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

দুই কোটি টাকার ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপে’ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
  © ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় উচ্চশিক্ষায় প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে। পিএইচডি ও মাস্টার্স কোর্সের আওতায় দেওয়া হবে এই ফেলোশিপ।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ (মাউশি) প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহবান করে। বাংলাদেশের নাগরিকেরা শর্ত সাপেক্ষে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ও মাস্টার্স পড়তে প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিক, যারা এর আগে বিদেশে কোনো মাস্টার্স বা পিএইচডি করেননি, তাঁরাই ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্স বা পিএইচডির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে চাকরি স্থায়ী হলে এবং চাকরিতে প্রবেশের পর কোনো মাস্টার্স বা পিএইচডি করে না থাকলে, তবেই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীকে প্রত্যাশিত ডিগ্রির জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিঃশর্ত অ্যাডমিশন অফার আবেদনের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে। অ্যাডমিশন অফারে ভর্তির শেষ তারিখ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে।

এছাড়াও The Times Higher Education World University overall ranking-2021 অনুযায়ী মাস্টার্সের জন্য ১ থেকে ২০০ এবং পিএইচডির জন্য ১ থেকে ১০০-এর মধ্যে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অফার লেটার আনতে হবে।

পিএইচডি ও মাস্টার্সের জন্য প্রদত্ত অর্থ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিএইচডির ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত প্রতিজন পাবেন দুই কোটি টাকা করে। আর মাস্টার্সের জন্য দেওয়া হবে ষাট লাখ টাকা করে। তবে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে (দ্য টাইমস হাইয়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি ওভারঅল র‌্যাঙ্কিং ২০২১) ১ থেকে ৩০-এর মধ্যে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি বা মাস্টার্স করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা আরও ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন। এ ক্ষেত্রে মাস্টার্সে ৬৬ লাখ এবং পিএইচডিতে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা হতে পারে।

টোফেল ও আইইএলটিএস স্কোর কত
প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের আওতায় মাস্টার্সে পড়ার জন্য সর্বোচ্চ ১৮ মাস এবং পিএইচডি ডিগ্রির জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের ফেলোশিপ পাবেন নির্বাচিতরা। ফেলোশিপের মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। আবেদনের শেষ তারিখ পর্যন্ত টোফেল ও আইইএলটিএসের (একাডেমি) কার্যকর মেয়াদ থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইইএলটিএসে ৬ দশমিক ৫, আর টোফেলে ন্যূনতম ৮৮ ও পিটিই একাডেমিকের ক্ষেত্রে মোট স্কোর হতে হবে ৫৯। এর কম স্কোর পাওয়া প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। আবেদনে কোনো অসম্পূর্ণ, মিথ্যা বা যেকোনো ধরনের জালিয়াতি ফেলো নির্বাচন বা ফেলোশিপের যেকোনো পর্যায়ে জানা গেলে আবেদন বা ফেলোশিপ তাৎক্ষণিক বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

আবেদন পদ্ধতি
আবেদনকারীকে ফেলোশিপের ওয়েবসাইট pmfellowship.pmo.gov.bd এ প্রবেশ করে একটি টেস্টে অংশ নিতে হবে। এ টেস্টে উত্তীর্ণ হলে আবেদনকারী ফেলোশিপের ওয়েবসাইটে নিজস্ব ই-মেইল ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একটি ভেরিফায়েড একাউন্ট খুলতে পারবে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী আবেদনপত্র তৈরি এবং জমা দিতে পারবেন। আবেদনপত্র জমা হওয়ার পরে কোনো ভুল থাকলে পুনরায় সংশোধনের সুযোগ আছে। চাইলে একাধিকবার আবেদন সংশোধন করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পরই ই-মেইল ও মোবাইলে নিশ্চয়তা সূচক একটি বার্তা প্রদান করা হবে। জমা দেওয়ার জন্য আবেদনের হার্ড কপি সংরক্ষণ করতে হবে । তিনটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যাবে। বিসিএস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তারা ‘বিসিএস সরকারি কর্মকর্তা’, অন্যান্য সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ‘নন বিসিএস সরকারি’ এবং বেসরকারি ব্যক্তিবর্গ ‘বেসরকারি ক্যাটাগরি’ তে আবেদন করতে পারবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন এবং পারবেন না
আবেদনের শেষ তারিখে আবেদনকারীর সর্বোচ্চ বয়স পিএইচডির ক্ষেত্রে ৪৫ বছর আর মাস্টার্স কোর্সের ক্ষেত্রে ৪০ বছর হতে পারবে। পিএইচডি কোর্সের জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাস্টার্স সম্পন্ন এবং মাস্টার্স কোর্সের জন্য আবেদনকারীকে ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন হতে হবে। ইতোমধ্যে একবার পিএইচডি সম্পন্ন করা প্রার্থী এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। কোনো আবেদনকারীর বিদেশি কোনো ডিগ্রি থাকলে ওই ডিগ্রির জন্য আবশ্যিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সমতা সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এর বাইরে বিদেশি ডিগ্রির সার্টিফিকেট মূল্যায়নের জন্য বিবেচিত হবে না।

আবেদনের শেষ সময়
আগামী ৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আবেদনের হার্ড কপি ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটার মধ্যে জমা দিতে হবে।

আবেদন পাঠানোর ঠিকানা
প্রকল্প পরিচালক ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প ও মহাপরিচালক, গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ