অ্যালায়েন্স কনসাল্টেন্সি © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স কনসালটেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। নিউজিল্যান্ডের মানাকি স্কলারশিপের জন্য অগ্রিম অর্থ দিলেও প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃত বিলম্বের কারণে স্কলারশিপ আবেদন ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এক শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ব্যর্থতার পর অর্থ ফেরত চাইলে সেখানেও হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠানটি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিউজিল্যান্ডের মানাকি স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগের কথা জানায়। আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য প্রথমে ১০ হাজার টাকা ফাইল ওপেনিং ফি দাবি করা হলেও পরে তা ৫ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি স্কলারশিপ নিশ্চিত হলে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার একটি চুক্তিও হয়।
ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি নির্ধারিত ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তারা দীর্ঘ ঈদ ছুটিতে চলে যায়। অফিস পুনরায় চালু হয় আবেদনের তারিখ শেষ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগে। এরপর গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হলেও তা শিক্ষার্থীর পছন্দ অনুযায়ী ছিল না। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা আরও ভাল বিকল্প নির্বাচন করেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছাকৃত দেরি করায় তার আবেদন ব্যর্থ হয়। এরপর তিনি অর্থ ফেরত চান। এ সময়ে শুরু হয় নানা হয়রানি। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি তাকে এও জানায় যে তারা সেই অর্থ ‘খেয়ে ফেলেছে’। ওই শিক্ষার্থী বলেন, বারবার যোগাযোগের পরও প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানাকি স্কলারশিপের বৈধ আবেদন সময়সীমা সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। এমনকি কোনো অফার লেটারও সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, ফলে ৩০ মার্চের মধ্যে স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করাই সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি টাকা ফেরতের দাবি জানালে প্রতিষ্ঠানটি ‘অফিস জটিলতা’, ‘অ্যাকাউন্ট সীমাবদ্ধতা’ ও ছুটির অজুহাত দেখিয়ে দেরি করতে থাকে এবং যোগাযোগেও অনীহা দেখায়। প্রথমে ৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও পরে ৪ হাজার টাকা পাঠানো হয়, দাবি করা হয় কিছু কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ফলে এক হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। কারণ সেই টাকা তারা খেয়ে ফেলেছে।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানালে প্রতিষ্ঠানটি অবশিষ্ট টাকা ফেরত দেয় এবং বিষয়টি আর এগিয়ে না নেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এই ঘটনায় দেশে শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যালায়েন্স কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সজল মাতবর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাপ্লিকেশন লেভেল-থ্রিতে চলে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের অ্যাপ্লিকেন্টের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে কারণে অফার লেটারগুলো আসতে একটু দেরি হচ্ছে। আমরা বেশ কয়েকবার ওই শিক্ষার্থীকে বলেছি যে আপনি অফিসে আসেন। এখন অ্যাপ্লিকেশন টিম, এসওবি লেখা, সিভি বানানো এবং প্রায় পাঁচটা ইনস্টিটিউট এবং দুইটা ইউনিভার্সিটিতে এপ্লাই করে ফেলেছি। এখন যদি আপনি কাজ না করতে চান, তাহলে কিছু করার নাই। পরে উনি কমপ্লেইন করেছেন, আমি জানার পর অ্যাকাউন্টস ম্যানেজারকে বলেছি যে উনার টাকাটা দিয়ে দেন।
তিনি বলেন, আমরা তো কাজ করেছি। ওই জায়গা থেকে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ১০০০ টাকা কম দিয়েছিল প্রথমে। এরপর উনি রিপোর্টের থ্রেট দেওয়ার প্রেক্ষিতে আমরা পুরো টাকাটা ফেরত দিয়েছি। ওই শিক্ষার্থী পুরো টাকা বুঝে পেয়েছেন।