ইবিতে জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রদের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ © টিডিসি ছবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুনিয়র কর্তৃক সিনিয়রদের লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ঠেকাতে গিয়ে এক ছাত্রলীগ নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সমাজকল্যাণ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ, তার বন্ধু ও সিনিয়ররা মিলে একই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফসহ তার বন্ধুদের মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারুফ এবং তার কয়কজন বন্ধু মিলে খোস গল্প করছিলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে মারুফ অন্যমনস্ক হলে গালে-মুখে হাত দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেন আরিফ। এতে মারুফ ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফকে মারতে উদ্যত হলে তাকে আটকান তার বন্ধু প্রিন্স। পরে রাত ১১টার দিকে লালন শাহ হলে গিয়ে আরিফের সাথে দেখা করে ক্ষমা চান মারুফ।
এ ঘটনা আরিফ তার বন্ধুদের জানায়। পরে আজ সকালে মারুফকে জিয়া মোড়ে দেখা করার জন্য বলেন আরিফের বন্ধুরা। এ সময় আবু তালেব, অনুপম, আবুযার, আলম, আরিফ ও আইন বিভাগের হানিফসহ ৭-৮ জন উপস্থিত ছিলেন। মারুফ আসলে তাদের মাঝে বাকবিতন্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে হানিফ মারুফকে চড়-থাপ্পড় মারেন।
এরপর মারুফ তার সিনিয়র ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিমুল, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মাসুদ, রিয়ন, তার বন্ধু প্রিন্স, ধ্রুবসহ ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে এলোপাতাড়ি আরিফকে চড়- থাপ্পড় মারেন। বাঁশ দিয়েও মারার জন্য উদ্যত হলে থামানো হয় তাদের। এ সময় ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা বিপুল হোসাইন খান ও হুসাইন খান মজুমদার উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
এরপর বেলা ১২টার দিকে তাদেরকে বঙ্গবন্ধু হলের সামনে ডাকেন ছাত্রলীগ নেতারা। এসময় ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন জোয়ার্দার, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, বিপুল হোসাইন খান, হুসাইন মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় মারুফকে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত ও বিপুল হোসাইন খান চড়-থাপ্পড় দিয়ে রুমে পাঠিয়ে দেয়।
ভূক্তভোগী আরিফ হোসেন বলেন, ‘গত রাতে (বৃহস্পতিবার) মারুফের সাথে কথা বলার সময় বারবার অন্যদিকে তাকাচ্ছিল। তখন মারুফের মুখে হাত দিয়ে আমার দিকে সরিয়ে দৃষ্টি আকর্শনের চেষ্টা করি। তৎক্ষণাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আজ (শুক্রবার) সকালে আমার বন্ধুরা মারুফকে বোঝানোর জন্য ডাকে। পরে মারুফ তার বন্ধু ও সিনিয়রদের ডেকে আমাদের এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।’
অভিযুক্ত মারুফ বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে আরিফ ভাই আমাকে থাপ্পড় মারে। তাৎক্ষণিক ক্ষিপ্ত হলেও পরে রাত ১১ টার দিকে ভাইয়ের হলে গিয়ে ক্ষমা চাই। আজ (শুক্রবার) সকালে ভাই আবার কল দিয়ে আমাকে ডাকে। এসময় তাদের একজন আমাকে থাপ্পড় মারে। পরে আমার বন্ধুরা কয়েকজন সিনিয়রকে জানায়। তারপর মারামারির ঘটনা ঘটেছে। কে কাকে মেরেছে আমি খেয়াল করিনি। আমি মাঠে অন্য পাশে বসে ছিলাম।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হেসেন বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নয়। ক্যাম্পাসে এসে বিষয়টি খোজখবর নিব।