ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজ

পরীক্ষার ৯ মাসেও মেলেনি ফল, অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০৭ PM
ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের লোগো

ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের লোগো © টিডিসি ফটো

সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা, সমন্বয়হীন ফল প্রকাশসহ নানান দুর্ভোগ জেঁকে বসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের কয়েকলাখ শিক্ষার্থীর মাথার উপর।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাবি প্রশাসন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আর সমন্বয়হীনতার ফলেই এমন অবস্থায় মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হবার পর দীর্ঘ নয় মাসেও মিলছেনা ফলাফল।

ভুক্তভোগীরা আরও জানায়, ২০১৮ সালের (২০১৪-১৫ সেশন) ৪র্থ বর্ষের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ। এরপর থেকে আজ অবধি নয়মাস সময় পেরুলেও অধিভুক্ত সাত কলেজে মোট ২৫টি চলমান বিভাগের মধ্যে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, উদ্ভিদবিজ্ঞান, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ অর্থ্যাৎ মোট আটটি বিভাগের ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

যার ফলে একই সেশনের অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারলেও বঞ্চিত হচ্ছে এই ৮টি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ‘পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ হবে’ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এমন প্রতিশ্রুতিও অকার্যকর।

ঢাকা কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল অভিযোগ করে বলেন, গত ৯ মাস আগে পরীক্ষা দিয়েও এখনও পাইনি ফলাফল৷ এমনিতেই ৪ বছর মেয়াদী অনার্স কোর্স সম্পন্ন করতে সময় লাগছে ৬ বছর তার পরেও আবার দীর্ঘ নয় মাসেও চতুর্থ বর্ষের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় কোন চাকরিতে আবেদন করতে পারছিনা৷ একদিকে সেশন জট তার উপর আবার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সূত্রিতা সবমিলিয়ে আমরা অনেক মানসিক দুশ্চিন্তায় আছি।

ইডেন মহিলা কলেজের ২০১৪-১৫ সেশনের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আদিবা তাসনীম বলেন, পরীক্ষার পর নয় মাস পেরিয়েছে তবুও রেজাল্ট পাচ্ছি না। আমাদের সাথেই অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা রেজাল্ট পেয়ে বিভিন্ন সরকারি চাকুরির জন্য আবেদন করতে পারছে। এরই মধ্যে আবার গতকাল প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি৷ আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর আগেই ফলাফল জোর প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

অপরদিকে শুধুমাত্র ২০১৪-১৫ সেশনই নয় বরং বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে সাত কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদেরও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ হলেও অধিভুক্ত সাত কলেজের এই সেশনের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাই নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর ফলে সেশন জটে পড়ে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা।

ঢাকা কলেজের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী তৌকির আহমেদ বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমাদের সেশনের শিক্ষার্থীদের অনার্স শেষ হলেও আমরা এখনও পরীক্ষাই দিতে পারিনি৷ কোন চাকরিতে আবেদনও করতে পারছি না৷ এতে চাকরির বাজারে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বানও জানান ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে অধিভুক্ত সাত কলেজের সমন্বয়ক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্ল্যাহ খোন্দকার বলেন, শিক্ষার্থীদের এ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমরা সাত কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে সমন্বয় সভা ডেকেছি। আজ বিকালে ঢাকা কলেজে সভা শেষে এসব বিষয়ে লিখিত আকারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাবো। আশা করি সমস্যার সমাধান হবে।

তবে এসব বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহলুল হক চৌধুরীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ভোলায় ৮৯০ লিটার ডিজেল জব্দ, ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫০ হাজার
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় ৫ মন্দিরে সাড়ে ৬ কোটি টাকা …
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি প্রাথমিকে মিড ডে মিলে শিক্ষার্থীরা পেল ‘পঁচা’ বনরুটি
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামে এনসিপি নেতৃবৃন্দের উপর হামলার প্রতিবাদ
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
যশোর শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
  • ০৬ এপ্রিল ২০২৬
close