অন্তর্কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রভাবে বেহাল কবি নজরুল কলেজ বিতর্ক ক্লাব

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৭ PM , আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১৩ PM
কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিতর্ক ক্লাব

কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিতর্ক ক্লাব © টিডিসি ছবি

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজের অন্যতম সংগঠন কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিতর্ক ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রভাবে বিপর্যয়ের মুখে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ক্লাব নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে ক্লাবটির সকল কার্যক্রম।

ক্লাবটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার চার-পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ক্লাবের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে গ্রুপিং, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে।

ক্লাবটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক বিতার্কিকরা। বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান সরল তার এক ফেসবুক পোস্টে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

তার দাবি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাবেক সভাপতির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনে কে কতটা অবদান রেখেছেন, তা নিয়ে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার দ্বন্দ্ব শুরু হলে বিষয়টি প্রকাশ্য বিরোধে রূপ নেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার পোস্টে তিনি অভিযোগ করে লেখেন, ক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি ক্লাব পরিচালনার পাশাপাশি নিজের স্বার্থনীতিও কৌশলে আদায় করে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা জাকারিয়া বারি সাগর এবং সদ্য সাবেক সভাপতি মো. আজম খানের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই ক্লাবে অন্তর্কোন্দল শুরু হয়। একপর্যায়ে জাকারিয়া বারি সাগর ও মো. আজম খানের অনুসারীরা পৃথক দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এপ্রিলের শুরুর দিকে মো. আজম খানের নেতৃত্বাধীন কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এদিকে ক্লাবে বিদ্যমান গ্রুপিং, অন্তর্কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নির্বাচন না করে সিলেকশনের মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিতর্ক ক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি মো. আজম খানের বিরুদ্ধে অন্যান্য ক্যাম্পাসের বিতার্কিক ও কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিতর্ক ক্লাবের বিভিন্ন সদস্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিতার্কিকদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মো. আজম খানের সঙ্গে কয়েকজন সদস্যের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে এর প্রভাব ক্লাবের সামগ্রিক পরিবেশেও পড়ে।

কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আজম খান একটি নির্দিষ্ট দলকে গড়ে তুলতে তাদেরকেই নিয়মিত জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাঠাতো বলে অভিযোগ করেছেন অনেক বিতার্কিকরা। 

একটি নির্দিষ্ট দলকে গড়ে তুলে তাদেরই নিয়মিত জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পাঠানো হতো—এমন প্রশ্নের জবাবে এক বিতার্কিক বলেন, এটা একদমই সঠিক নয়। বিতর্কের কোনো স্লট পাওয়ার পর এক্সিকিউটিভ গ্রুপে জানানো হয়, কারা ওই বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। কিন্তু গ্রুপে এ বিষয়ে তেমন কারও আগ্রহ প্রকাশ করতে দেখা যায় না। কারণ, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বেশ বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়, যা নিজেদের অর্থায়নেই বহন করতে হয়। ক্লাব বা প্রতিষ্ঠান থেকে এ খরচ দেওয়া হয় না। এই প্রতিযোগিতাগুলোতে যদি না যায় বা অংশ গ্রহণ না করে তাহলে পরবর্তীতে সুযোগ আর আসেনা। 

বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আজম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এক বিতার্কিক বলেন, তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতার কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে অরাজনৈতিক এই ক্লাবে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। গঠনতন্ত্রে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে থাকার সুযোগ না থাকলেও এক রাজনৈতিক কর্মীকে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার অভিযোগও করেন তিনি। 

এ ছাড়া ক্লাবের নারী বিতার্কিকদের অপ্রয়োজনে টেক্সট পাঠানো এবং বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পাসে ডেকে নেওয়ার মতো অভিযোগ উঠেছে বিতর্ক ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং ও নানা ধরনের মতবিরোধের কারণে বিতর্ক ক্লাব থেকে দূরে সরে গেছে অনেক দক্ষ বিতার্কিকরা। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সজীব বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। কেউ অভিযোগ করে থাকলে সেটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

এসব বিষয়ে বিতর্ক ক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি মো. আজম খানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কের স্লট পেলে গ্রুপে আলোচনা করা হতো সেখানে অভিজ্ঞতার সাথে সাথে অংশগ্রহণ ও যাতায়াত খরচ দিতে যারা রাজি হতো তারাই অংশগ্রহণ করত।

আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য ক্যাম্পাসের বিতার্কিক কারো সাথে কোনো আর্থিক লেনেদেন নেই। আমাদের ক্যাম্পাসেও এরকম তেমন কেউ নেই। এক-দুই জন থাকতে পারে যাদের সাথে ব্যক্তিগত লেনদেন, সংগঠনের জায়গা থেকে কোনো লেনদেন নেই।

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এক্সিকিউটিভ কমিটিতে থাকার সুযোগ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কেউ যোগ্যতার ভিত্তিতে কমিটিতে থাকতে পারে। সভার সিভি নিয়ে সভাপতি-সম্পাদক আলোচনা করা হয়েছে। মডারেটর ম্যামদের অনুমতিক্রমে অধ্যক্ষের স্বাক্ষরে কমিটি করা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কমিটি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিতর্ক ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা জাকারিয়া বারি সাগর বলেন, আমরা চাই প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মডারেটর, শিক্ষার্থী উপদেষ্টা এবং সদ্য সাবেক সভাপতি ও সম্পাদক মিলে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজন করুক।

নির্বাচন আয়োজন এতদিনেও না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সদ্য সাবেক সভাপতিকে বারবার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেও আমরা আশানুরূপ সাড়া পাইনি। বলা যায়, উনি নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষক মডারেটররা যোগাযোগ করেছে আমরা তাদের সর্বাত্মক সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। 

অন্তর্বর্তীকালিন কমিটির বিষয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, এরকম কোনো কমিটি হয়েছে বলে আমি খবর পাইনি। যদি এরকম কোনো কমিটি হয়ে থাকে তাহলে আমরা শিক্ষার্থী উপদেষ্টারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিবো। কমিটি হতে হলে অবশ্যই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে হতে হবে। 

সদ্য সাবেক সভাপতি মো. আজম খানের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিলো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না তার সাথে আমার সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো এখনো আছে।

ডিবেটিং ক্লাবের বিষয়ে কবি নজরুল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এখন ডিবেটিং ক্লাব চালু করব না। ওটা অনেক ঝামেলা। তারা কাজ করুক অফিস ছাড়া। কাজ করতে অসুবিধা নাই। কিন্তু আমরা কোনো অফিস, তাদের জন্য কোনো কমিটি এভাবে আমরা দিব না। ওরা ওদের মতো করে করতে থাক।

তিনি বলেন, ওরা ওদের মতো করে তৈরি হয়ে ওরা বিভিন্ন জায়গায় অংশগ্রহণ করুক, বাধা নাই। আমরা এখন কমিটি করব, অনুমোদন দিব, আমাদের তত্ত্বাবধানে—ওইটা করতে পারতেছি না। একটু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।

জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিংবা ডিবেট প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে কলেজ প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, কে কে করবে তারা তা বাছাই করুক। এক্ষেত্রে তারা যদি কয়েক ধাপ আগায় যদি তারা জিতে আসে, তখন ওটা দেখা যাবে।

নিখোঁজ শিশুর পা কেটে করানো হয় ভিক্ষাবৃত্তি, ৭ মাস পর মাহফিল…
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফোডেনের লাল কার্ড, ১০ জনের সিটির ডার্বি জয়
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকে অত্যাচারী সমাজে পরিণত করেছিল: স্পিকার
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছেলেদের পর হরমনপ্রীতরাও, নকভির হাত থেকে ট্রফি নিল না ভারত
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একসঙ্গে ২৩ অধ্যাপক পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9