খুবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (কুআ) কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সদস্য নবায়নে চরম অনিয়ম ও অনৈতিক সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয় অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পদ্ধতি লঙ্ঘন করে অফলাইনে ও বাল্ক পেমেন্টের (একযোগে চাঁদা প্রদান) মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ডিসিপ্লিনকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
আগামী ৩০ অক্টোবর কুআ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সদস্য নবায়নের শেষ দিন ছিল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন হালনাগাদ ও নবায়নে গুরুতর অনিয়মের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কুআ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনলাইন মেম্বারশিপ রেজিস্ট্রেশন এবং বার্ষিক চাঁদা হালনাগাদের সময়সীমা শেষ হয়। কুআর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটার হতে হলে আজীবন সদস্য অথবা বাৎসরিক ৫০০ টাকা চাঁদা পরিশোধ থাকতে হয়। কিন্তু নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের বাইরে গিয়ে শেষ মুহূর্তে নির্দিষ্ট কিছু ডিসিপ্লিনের সদস্যদের বকেয়া চাঁদা একযোগে তালিকা করে অফলাইনে বা ‘বাল্ক পেমেন্ট’-এর মাধ্যমে হালনাগাদ করা হয়েছে। সাধারণ সদস্যদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ছাড়া তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে এমন গণ-পরিশোধ নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে প্রার্থীদের মধ্যে চরম অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এছাড়া ভোটার তালিকা প্রণয়নে আরও বেশ কিছু গুরুতর পদ্ধতিগত ও নিরাপত্তা ত্রুটির কথা তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগপত্রে। এগুলো হচ্ছে— ওটিপি ও সম্মতির অভাব, ভুয়া বা ড্রপ-আউটদের অন্তর্ভুক্তি ঝুঁকি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা মোবাইল/ইমেইল ওটিপি ব্যবস্থা না থাকায় সংশ্লিষ্ট গ্র্যাজুয়েটের প্রত্যক্ষ সম্মতি ছাড়াই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সাথে ক্রস-চেকিং বা কার্যকর ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা না থাকায় অসম্পূর্ণ বা ড্রপ-আউট শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা রয়ে গেছে। এছাড়া গ্র্যাজুয়েটদের অজ্ঞাতসারে তাদের প্রোফাইল তৈরি ও চাঁদা পরিশোধের মাধ্যমে তথ্যের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লিখিত অভিযোগে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবিও জানিয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন। এগুলো হলো— অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একযোগে (বাল্ক পেমেন্ট) ফি পরিশোধ করে হালনাগাদ করা আইডিগুলোর ভোটাধিকার অবিলম্বে বাতিল করা, একই মোবাইল নম্বর বা ইমেইল ব্যবহার করে একাধিক নিবন্ধিত ভুয়া ও ডুপ্লিকেট ভোটার আইডি শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর বা সেন্ট্রাল ডেটাবেজের মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটারের গ্র্যাজুয়েশন স্ট্যাটাস কঠোরভাবে যাচাই করা।
অভিযোগকারী অধ্যাপক ড. মামুন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সদস্য নবায়নের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে কয়েকটি ডিসিপ্লিনকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ভোটারই মাত্র পাঁচটি ডিসিপ্লিন থেকে এসেছে।
পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ৩০টি ডিসিপ্লিনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮৩। সেখানে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রোটেকনোলজি এবং ইকোনমিক্স—এই মাত্র ৫টি ডিসিপ্লিনেই রয়েছেন ৩ হাজার ৪২ জন। এর মধ্যে ফিশারিজে ৮৫৪, ফরেস্ট্রিতে ৭৯৭ এবং সিএসইতে ৭২০ জন রয়েছেন। অন্যান্য ডিসিপ্লিনে ভোটার সংখ্যা গড়ে একশো থেকে দেড়শো। একশোর নিচেও রয়েছে অনেকগুলো ডিসিপ্লিন।
অধ্যাপক মামুন বলেন, এতে চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ডিসিপ্লিনকে অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো অজুহাত থাকলে সবার ক্ষেত্রেই সমান সুযোগ দেওয়া যেত। কিন্তু তেমনটি হয়নি। এসব অনিয়ম দূর না করে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হলে তা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম রফিজুল হক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবার নির্বাচনে এত বেশি অ্যালামনাই আগ্রহ দেখাবেন এটি আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। শেষ পর্যায়ে এমন হয়েছে যে সার্ভার আর চাপ নিতে পারছিল না, তখন বিকল্প উপায়ে চাঁদা আদায় করতে হয়েছে। এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবেই হয়েছে, ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সদস্য নবায়নের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বলেন, এটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিষয়। তবে আমাদেরকে দায়িত্বটি পালন করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা মেনেই কাজ করতে হয়েছে। আর এ ধরণের ঘটনা আগেও হয়েছে। পদ্ধতিগত ও নিরাপত্তা ত্রুটির যে কথা বলা হয়েছে, সেটিরও আপাতত বিকল্প ছিল না। আসন্ন নির্বাচনটা হয়ে যাক, এরপর আমরা এই অভিজ্ঞতার আলোকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করব, যেন এগুলো সমাধান করা সম্ভব হয়।