বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

এইচএসসির সনদেই স্নাতক পাসের চাকরি, পেয়েছেন পদোন্নতিও, উদ্যোগ স্থায়ীকরণের 

১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ PM , আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৮ PM
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের লোগো

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালযয়ের লোগো © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

স্নাতক পাসের আগেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন সোহান মিয়া। নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করলেও প্রায় ১৪ বছর ধরে বহাল আছেন তিনি। পেয়েছেন পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন। এবার সেই আপগ্রেডেশন স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ দেন সোহান মিয়া। ওই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক পাস চাওয়া হয়। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের সময় সোহান মিয়া ছিলেন উচ্চমাধ্যমিক পাস। পরে তিনি ২০১৬ সালে ডিগ্রি পাস করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় কর্মরত এক কর্মকর্তার সহযোগিতায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন করে সোহান মিয়া চাকরিতে যোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠলেও এতদিন তিনি চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

স্নাতক পাসের আগে কীভাবে সোহান মিয়া স্নাতক যোগ্যতাসম্পন্ন কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছেন। তবে সেই তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে না নিয়ে উল্টো তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এবার তার আপগ্রেডেশন স্থায়ী করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী রোববার  (১৬ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কনফার্মেশন বোর্ডে সোহান মিয়াসহ আপগ্রেডেশন পাওয়া ২৫ কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিধিবহির্ভূতভাবে ২৫ কর্মচারীকে গণহারে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ১৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পাঠানো ইউজিসির এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রদত্ত আপগ্রেডেশনগুলো নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় তাদের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি। একই সঙ্গে এসব আপগ্রেডেশন বাতিল করে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে কমিশনকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে ইউজিসির ওই নির্দেশনার পরও তাদের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে সোহান মিয়ার চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগটি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কারণ নিয়োগের সময়ই তিনি সংশ্লিষ্ট পদের নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করেননি  বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে দেখা গেছে।

এর আগে বেরোবিতে সনদ ও অভিজ্ঞতার তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়াসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

সোহান মিয়ার চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে কনফার্মেশন বোর্ডের সদস্য গণিত বিভাগের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম বলেন, আমি মাত্র ঢাকা থেকে আসছি। বোর্ডের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আবেদন যে কেউ করতেই পারে। আবেদন করলেই তো আর তাকে স্থায়ী করা হবে না। নথি এখনো আমার কাছে আসেনি। নথি পেলে আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি অভিযুক্ত সোহান মিয়া। মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভভ হয়নি।

এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণের খাতা মূল্যায়ন করবেন কারা?
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
এসএ গ্রুপ নিয়োগ দেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, আবেদন ১১ সে…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন তিন লাখ ছড়াল, বাকি আরও দুদিন
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের খণ্ডকালীন নিয়োগ দেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্য…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
সেই তর্ক কাণ্ডে মিরাজের কাছে ‘ভুল’ স্বীকার স্টার্কের
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
রাজধানী থেকে অভিনেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬