জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ডেঙ্গুর আতংক বেড়েই চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯২ জন শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সবাই উদ্যেগ প্রকাশ করলেও একবার মশা মারার ঔষধ ছিটানো ছাড়া আর কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদেও মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। আবাসিক সুবিধা না থাকায় জবির অধিকাংশ শিক্ষার্থী মেসে থাকে। পুরান ঢাকার ঘিন্জি এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আতংকে দিন পার করছে।
এদিকে আজ রবিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে মোট ৯১ জন শিক্ষার্থী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এই তথ্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি নামক একটি গ্রুপ ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার সুত্রে জানা গেছে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে আইন বিভাগে ১১জন, নৃবিজ্ঞানে ৬জন, রসায়নে ১জন, সমাজকর্মে ২জনে গনিতে ৩জন, অর্থনীতিতে ২জন, দর্শনে ১জন, ফার্মেসীতে ৪জন, ভূগোল ও পরিবেশে ৪জন, ফিল্ম এন্ড টেলিভিশনে ২জন, মার্কেটিংয়ে ২জন, প্রাণিবিদ্যায় ৬জন, লোকপ্রশাসনে ২জন, একাউন্টিংয়ে ১জন, সমাজবিজ্ঞানে ৭জন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইনে ১জন, ইতিহাসে ৩জন, পদার্থবিজ্ঞানে ২জন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় ২জন, ইংরেজীতে ১জন, নাট্যকলায় ২জন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৫জন, শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে ৪জন, ইসলামিক স্টাডিজে ৪জন, মাইক্রোবায়োলজিতে ১ জন, মনোবিজ্ঞানে ২জন, সংগীতে ১জন, বায়োকেমিস্ট্রতে ১জন, উদ্ভিদবিজ্ঞানে ২ জন এবং সিএসসিতে ১জন।
বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের খবর নিয়ে জানা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল না থাকায় মেসের বিরূপ পরিবেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মিতা শবনম বলেন, ‘প্রতিদিনই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসছেন। আজকেও আমি মোট ৬০জনের মত রোগী দেখেছি তার মধ্যে ৪০ জনই জ্বরের রোগী। ডেঙ্গু জ্বরের জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করার জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমাদের ডেঙ্গু নিয়া নতুন কোন চিন্তা ভাবনা নেই। আমরা প্রথমত নাপা খেতে বলি এবং হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই।
জবি শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট ১২তম ব্যাচের ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা শহরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরাই সবচেয়ে কষ্টে থাকি। আমাদের হল নেই তাই মেসে থাকতে হয়। পুরান ঢাকায় মেসে থাকতে প্রচুর কষ্ট হয় এবং আমরা সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছি। আমরা চাই, আমাদেরকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেয়া হোক তাহলে আমরা বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম করতে পারবো।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অনেক শিক্ষার্থীই বাড়ি চলে গেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অধিকাংশ মেসে মশারি টানানোর ব্যবস্থা নেই। ফলে দুঃসহ জীবন-যাপন করছেন শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটাই দাবী যাতে তাড়াতাড়ি ছুটির ব্যবস্থা করা হয়।