ভিসি-প্রক্টরসহ শীর্ষ কর্মকর্তার অফিস

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছরের আপ্যায়ন বিল ৫ মাসেই সাবাড়

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৯ PM , আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৮ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন © সংগৃহীত

অস্বাভাবিক আপ্যায়ন বিলে ভুগছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। নামে বেনামে বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন ভাউচারে অস্বাভাবিক হারে উঠেছে প্রশাসনের আপ্যায়ন বিল। প্রশাসনের এই আপ্যায়ন বিলের পরিমাণ এতো বেশি যে মাত্র ৫ মাসেই শেষ হয়ে গেছে ইউজিসি থেকে বরাদ্দকৃত ১ বছরের আপ্যায়ন বাজেটের সম্পূর্ণ টাকা। বিষয়টি নিয়ে কানাঘুঁষা চলছে বিভিন্ন মহলে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের জুলাইয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৯২ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করে ইউজিসি। সেখানে বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় ধরা হয়েছিল শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ। এর বাইরে প্রশাসনের আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ১৩ লাখ টাকা। তবে প্রশাসনের অস্বাভাবিক আপ্যায়ন বিলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে মাত্র ৫ মাসেই।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের আপ্যায়ন বাজেট থেকে খরচ করা শুরু করেছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অফিস, প্রো-ভিসি অফিস, ট্রেজারার অফিস, প্রক্টর অফিস, ছাত্র উপদেষ্টা অফিস সহ কয়েকটি তদন্ত কমিটির নামে আপ্যায়ন বিল উঠেছে ইবি প্রশাসনের। মাত্র ৫ মাসের মাথায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপ্যায়ন খাতে প্রশাসন ব্যয় করেছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৩৭ টাকা। অথচ পুরো অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত ইউজিসির বরাদ্দে ছিল ১৩ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষ হওয়ার ৭ মাস আগেই পুরো বছরের আপ্যায়ন খাতের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক ও ভুতুড়ে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া ভাউচারে আপ্যায়ন ব্যায়ের নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। 

আমি আমার জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে জানিয়েছি যে, আপ্যায়ন বাজেট বেশি হয়ে গেছে। যে হারে বিল উঠছে; তা বাজেট ক্রস করে যাবে। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন।- আনার পাশা, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, অর্থ ও হিসাব বিভাগ

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের আপ্যায়ন বিলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ভিসি অফিসের পেছনে। গত বছরের ৩ জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাস ৫ দিনে এই অফিসের আপ্যায়ন ব্যয় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ১৯ টাকা। আপ্যায়ন ব্যয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে প্রক্টর অফিস। মাত্র ৫ মাসে প্রক্টর অফিসের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ১৬৬ টাকা। তৃতীয় স্থানে আছে ছাত্র উপদেষ্টা অফিস। বছরব্যাপী ছাত্র উপদেষ্টা অফিসের উল্লেখযোগ্য কোন কার্যক্রম দেখা না গেলেও ৫ মাসে এই অফিসে আপ্যায়ন বিল উঠেছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩২০ টাকা। এছাড়া এই ৫ মাসে প্রো-ভিসি অফিসের আপ্যায়ন ব্যয় ৩০ হাজার ১৪৬ টাকা এবং ট্রেজারার অফিসের আপ্যায়ন ব্যয় ১৮ হাজার ৭১০ টাকা। 

এতো অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ আপ্যায়ন বিলের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, মাত্র কয়েক মাসে এতো টাকা আপ্যায়ন ব্যয় একেবারেই অস্বাভাবিক, একে স্বাভাবিক বলার কোন সুযোগ নেই। এক খাতের টাকা আরেক খাতের ব্যয়ের সুযোগ ও প্রবণতা থাকায় এই ধরনের বিল তুলতে দেখা যায়। আবার এখানে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থের নয়-ছয়ের আশঙ্কাও অমূলক নয়। তবে সরকারের উচিত অডিটটা কঠোরভাবে পরিচালনা করা। কারণ এসব ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অডিট অফিসারদের দায়সারা কার্যক্রমের সুযোগ নেওয়া হয়।  

এ বিষয়ে অর্থ ও হিসাব বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আনার পাশা বলেন, এই ব্যয়কে স্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না কোনভাবেই; কারণ বাজেটের মধ্যে থেকেই ব্যয় করতে হবে, এটাই নিয়ম। সরকারের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা থাকে যে ব্যয় বাড়ানো যাবে না। উপরন্তু, যতটা সম্ভব কমাতে হবে। তবে আমি আমার জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে জানিয়েছি যে, আপ্যায়ন বাজেট বেশি হয়ে গেছে। যে হারে বিল উঠছে; তা বাজেট ক্রস করে যাবে। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন। 

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা ইরানের
  • ১১ জুন ২০২৬
সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বিইউপির গুরুত্বপূর্ণ পদে ১৫ কর্মকর্ত…
  • ১১ জুন ২০২৬
পর্তুগালের জয়ের রাতে কাঠগড়ায় রোনালদো, গোল মিসের মহোৎসব
  • ১১ জুন ২০২৬
অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল
  • ১১ জুন ২০২৬
অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল
  • ১১ জুন ২০২৬
এক মাসে ১ কোটি ৫৯ লাখ ভাতাভোগীকে ২৪০০ কোটি টাকা বিতরণ নগদের
  • ১১ জুন ২০২৬
×