© টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনকে নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দেরি করে আসা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুই ঘন্টা বসিয়ে রাখা, স্লোগানরত এক ছাত্রলীগে কর্মীর হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যাওয়া সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক টাইম লাইনে শোভন-রাব্বানীকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, কেন তারা ১১টার প্রোগ্রামে ৩টায় আসে? প্রধান অতিথি রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের জন্য ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দুর্দিনের রাজপথ কাঁপানো সাবেক সাধারন সম্পাদককে ৩ ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়।বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকেও অপেক্ষা করতে হয়
প্রায় আমার বয়সী কিংবা আমার চেয়ে ২-১ বছর সিনিয়র ।এমন দুটো মানুষের জন্য ৩ ঘন্টা রাষ্ট্রীয় কাজ বন্ধ রাখতে হয় ।উনারা কি এলিয়ন এত ক্ষমতা আর আমরা কি...! আমরা আপার সাক্ষাৎ পাই না।
সভাপতি -সাধারন সম্পাদক হওয়াতে সাক্ষাৎ পাওয়াতে কথায় কথায় আপার দোহায় দেওয়া মোটেও সমীচীন হবে না আপার ছাত্রলীগ ,তাহলে আমরা কি আপার ছাত্রলীগ করি না? নাকি আমরা জামায়াত-বি এন পির অছাত্র,জঙ্গী সংগঠন করি? আমাদের আপা কি বলেছে? ভন্ডামি করতে,অভিনয় করতে? মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটিতে আপনারা কোনধরনের শিক্ষার্থীদের পদায়ন করেছেন? পদায়ন করেছেন রাজাকারের বা যুদ্ধাপরাধীদের সন্তান ও নাতি -নাতনিদের, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ক্রান্তিকালীন নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার প্রার্থীদের পরাজিত করার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করা লোকজনকে, অছাত্র, বিবাহিত,চাকুরীজীবী, মাদক ব্যবসায়ীদেরকে।কোন ধরনের লোকদের পদায়ন করেননি তা আপনারাই ভাল জানেন কারন কমিটি তো আপনারা করেছেন।
আবার সংবাদ সম্মেলন করে সংখ্যায় অনেক বেশি,তা কম করে বলে স্বীকার করেছেন । আপনাদের নেতৃত্বের ‘‘ন’’ থাকার মত যোগ্যতা নাই ।আপনাদের উচিত এখনই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে বিদায় নেওয়া কারন আজ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিধাতা লিখে রাখলেও এর জন্য আপনারা দায়ী। এ দায় কোনভাবে এড়াতে পারেন না । আর দায়ী করে কি হবে? যার গেছে কেবল তার পরিবারই বুঝতে পারছে
তাদের কি গিয়েছে!
উল্লেখ্য, প্রেমঘটিত বিষয়ে সংঘর্ষের জেরে তরিকুল-রাসেল কমিটি ১৯ ফেব্রুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি বিলুপ্তির প্রায় ৬ মাস পরে সম্মেলন হয়েছ। শনিবার(২০ জুলাই) ছাত্রলীগের সম্মেলন চলাকালে অসুস্থ হয়ে সুলতান মো. ওয়াসি নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ইংরেজি বিভাগে ১১তম ব্যাচের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থী।