ছাত্রীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারে খুবি অধ্যাপকের আলাপ, স্ক্রিনশট ভাইরালের পর তদন্তে কমিটি

১৮ জুন ২০২৬, ০৩:২৪ PM , আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৩৫ PM
অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম

অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম © সংগৃহীত

হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। এর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র বিষয়টি তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

বুধবার (১৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন হাসান স্বাধীন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই বিষয়টি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা হোক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আমরা আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের এক শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রথমে তার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করলেও পরে ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্ন অস্বস্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠাতে শুরু করেন। অভিযোগের সঙ্গে কিছু বার্তার স্ক্রিনশটও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, এসব স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি ফেসবুকে শিক্ষককে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পর শিক্ষক তা গ্রহণ করেন এবং নিয়মিত বার্তা পাঠানো শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বার্তাগুলোর ধরন তাকে অস্বস্তিতে ফেলে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। দীর্ঘদিন ভয় ও সংকোচে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও শেষ পর্যন্ত অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

আরও পড়ুন: মন্ত্রণালয়-ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে শীর্ষ ৫ পদে ‘চুপিসারে’ নিয়োগ দিচ্ছেন ইআবি ভিসি, জানেন না প্রো-ভিসিও

তাওহিদ আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ডিসিপ্লিনের বিষয় নয়, এটি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত। তাই আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবে এবং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।’

অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং এরপর থেকে তার ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান বলেন, তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ: খুবি
মাদ্রাসা প্রধান ও শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
  • ১৮ জুন ২০২৬
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির র‍্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউটে ফেলোশিপে উচ…
  • ১৮ জুন ২০২৬
কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে অভিযান, ৭ যুবকের কারাদণ্ড
  • ১৮ জুন ২০২৬
শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলায় দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
  • ১৮ জুন ২০২৬
খুলনায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার
  • ১৮ জুন ২০২৬
কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ওয়ালটন, আবেদন অভিজ্ঞতা ছ…
  • ১৮ জুন ২০২৬