মন্ত্রণালয়-ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে শীর্ষ ৫ পদে ‘চুপিসারে’ নিয়োগ দিচ্ছেন ইআবি ভিসি, জানেন না প্রো-ভিসিও

১৮ জুন ২০২৬, ০২:২০ PM , আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ PM
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত

নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির নানা অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় থাকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআরবি) আবারও বিতর্কে জড়িয়েছে। এবার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু জাফর খানের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশাসনিক পদে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে গোপনে তৎপরতা শুরু করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে অফার লেটারও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এর কিছুই জানেন না খোদ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রো-ভিসিও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অর্থ বিভাগের পরিচালক, মাদ্রাসা পরিদর্শক এবং দুই ডিন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা।

জানা গেছে, অতীতের নানা নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও অনিয়মের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি রয়েছে। ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম কার্যত স্থগিত রেখেছে। একই সঙ্গে আর্থিক ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়ম তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে। তবে এসব সিদ্ধান্তের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পাঁচ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার ছাড়া আর কেউ জানতেন না।

বাংলাদেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই লিয়েন ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চর্চা রয়েছে। এগুলো আইনসম্মতভাবেই করা হয়। আপনি সিন্ডিকেট সভার কথা বলছেন, সেই সিন্ডিকেটেও আমি ছিলাম। সেখানে লিয়েনে নিয়োগ বন্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমন কোনো আলোচনাও হয়নি।—প্রফেসর ড. আবু জাফর খান, উপাচার্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার জানা নেই। কারণ নিয়োগের জন্য কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়। যদি উপাচার্য মনে করেন তাহলে আমাকে ওই কমিটিতে রাখবেন আর যদি মনে না করেন তাহলে রাখবেন না। এটা উপাচার্যের একান্ত বিষয়। 

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এমদাদুল হক, ডিন পদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী এবং আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী অফার লেটার পেয়েছেন। অফার লেটার পাওয়ার পর তাদের মধ্যে কেউ কেউ লিয়েনে যোগদানের জন্য ছুটির আবেদনও করেছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী স্বীকার করেন ডিন পদে যোগদানে লেটার পাওয়ার বিষয়টি। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি ছুটির জন্য আবেদন করেছি। ছুটি মঞ্জুরের ফাইলটি এখনো ভিসি স্যারের অফিসে আছে।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার জানা নেই। কারণ নিয়োগের জন্য কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়। যদি উপাচার্য মনে করেন তাহলে আমাকে ওই কমিটিতে রাখবেন আর যদি মনে না করেন তাহলে রাখবেন না। এটা উপাচার্যের একান্ত বিষয়।—ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর, ইআবি

নিয়োগের পেছনে আর্থিক লেনদেন বা নিয়মবহির্ভূত প্রক্রিয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিধি মেনে কাজ করে, তবেই তারা এটি করবে। এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

এছাড়াও অফার লেটার পাওয়ার কথা স্বীকার করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমি সেখানে হয়তো এক বছরের জন্য গেলাম, ভালো না লাগলে আবার তাৎক্ষণিকভাবে আমার আগের পদে ফিরে আসতে পারব। এটি স্থায়ী চাকরির মতো নয়।’

লেটার পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে আমাদের বিভাগের ডক্টর অলিউল্লাহ সাহেব ওখানে ডিন হিসেবে ছিলেন, তিনি এখন আবার নিজ বিভাগে ফিরে এসেছেন। তার মাধ্যমে শূন্য পদের তথ্য তারপর আমি যাওয়ার জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করি। 

তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি কেবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছি, কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয় (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া) এখনো আমাকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি। যতক্ষণ আমার বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে গ্রিন সিগন্যাল না দেবে, ততক্ষণ তারা আমাকে নিতে পারবে না।’

অন্যদিকে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এমদাদুল হক ইআরবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে অফার লেটার পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এক বছরের লিয়েন ছুটির জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদও ছুটির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৃতীয় গ্রেডভুক্ত এসব পদে লিয়েন বা প্রেষণে নিয়োগের বিধান থাকলেও অতীতে উপাচার্যরা লিয়েনে নিয়োগ দিতেই বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ এতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো সহজ হতো। আর এ কারণেই নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে।

লিয়েনে বা প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ থাকলেও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে আসছিল। সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে ২২তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা নওসের আলীকে পরিচালক হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হলে প্রথমদিকে তার যোগদানে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদান করাতে বাধ্য হয়।— কর্মকর্তা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়

এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালে ইউজিসি ইআরবির আর্থিক ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ দিয়ে একটি পৃথক পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রের ১৩ নম্বর ধারায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশের মাধ্যমে পদায়ন ও যোগদান সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ইউজিসির আর্থিক বিধিমালার ৪ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়, লিয়েনে রেজিস্ট্রার, অর্থ পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগ দেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এসব পদে লিয়েনে আর কোনো নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

ইউজিসির ওই নির্দেশনার পর ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে লিয়েনের পরিবর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডার অথবা অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেষণে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। একই সঙ্গে তৎকালীন রেজিস্ট্রার ড. রেজাউল হককে লিয়েনের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সর্বশেষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু জাফর খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ ২০২৬ সালে এসে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরুতে উপাচার্য ও ট্রেজারার ছিলেন, পরে উপ-উপাচার্যের পদ যুক্ত হয়েছে। তবে বাকি পাঁচটি প্রশাসনিক পদ দীর্ঘ ২০ বছর ধরেই তিনটি স্বীকৃত পদ্ধতিতে পূরণ করা হয়ে থাকে। এই তিনটি পদ্ধতি হলো—বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ, লিয়েনে নিয়োগ এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। এগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনে স্বীকৃত ও বৈধ প্রক্রিয়া।

উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই লিয়েন ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চর্চা রয়েছে। এগুলো আইনসম্মতভাবেই করা হয়। আপনি সিন্ডিকেট সভার কথা বলছেন, সেই সিন্ডিকেটেও আমি ছিলাম। সেখানে লিয়েনে নিয়োগ বন্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমন কোনো আলোচনাও হয়নি।

আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও ছিলাম না; আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়গুলোর সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়গত মিল রয়েছে। বিশেষ করে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতেই। ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল বিবেচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক আনার বিষয়টি স্বাভাবিক।— ভিসি, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়

‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লিয়েনে কেন কাউকে আনা হবে? এর উত্তর খুবই সহজ। বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখার জন্য। সরকার আমাকে এখানে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার যে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য, সেটি বাস্তবায়নের দায়িত্বও আমাদের। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ২০১৭ সালের পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পিয়ন, মালি কিংবা ড্রাইভারও নিয়োগ পায়নি। ২০১৭ থেকে ২০২৬ প্রায় নয় বছর ধরে কোনো নিয়োগ হয়নি।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন রেজিস্ট্রার নিজের ছেলেকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিতে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। একই সময়ে অন্যান্য পদেও অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ইউজিসি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে সেই কমিটি এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

এ অবস্থায় আবারও লিয়েনে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়াকে নতুন বিতর্ক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই উপাচার্য নিজের পছন্দের লোকদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু জাফর খান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এখানে অর্থ কেলেঙ্কারির যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি প্রথমবারের মতো আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম। আমি একজন শিক্ষক। সরকার আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়েছে এবং আমি সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি। সাধারণত সরকারি অর্থ তছনছ হলে সেটিকে অর্থ কেলেঙ্কারি বলা হয়। এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এ বিষয়ে আমার কোনো তথ্যও নেই।

লিয়েনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি বললেন, যাদের আনা হচ্ছে তাদের অনেকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। আমি বলতে চাই, আমার শিক্ষক সংকট রয়েছে। আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও ছিলাম না; আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে বাস্তবতা হলো, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিষয়গুলোর সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়গত মিল রয়েছে। বিশেষ করে আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজের মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতেই। ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল বিবেচনায় এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক আনার বিষয়টি স্বাভাবিক।’

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, লিয়েনে বা প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাপ থাকলেও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে আসছিল। সম্প্রতি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে ২২তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা নওসের আলীকে পরিচালক হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হলে প্রথমদিকে তার যোগদানে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদান করাতে বাধ্য হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, উপাচার্যের আশঙ্কা ছিল যে পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তার পছন্দের বাইরে অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে পারে। এ কারণেই তিনি নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ৭০০ আলিম ও ফাজিল পর্যায়ের মাদ্রাসা তদারকি করে। এছাড়া ফাজিল ও কামিল পর্যায়ের অনুমোদন, পরিদর্শন, পরীক্ষা পরিচালনা এবং পরিচালনা কমিটি অনুমোদনের দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয়টির ওপর ন্যস্ত। সংশ্লিষ্ট মহলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, এসব কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করেন। অতীতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাধিক কর্মকর্তার চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

ট্যাগ: ইআরবি
মাদ্রাসা প্রধান ও শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা
  • ১৮ জুন ২০২৬
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির র‍্যাডক্লিফ ইনস্টিটিউটে ফেলোশিপে উচ…
  • ১৮ জুন ২০২৬
কুয়াকাটায় আবাসিক হোটেলে অভিযান, ৭ যুবকের কারাদণ্ড
  • ১৮ জুন ২০২৬
শিবির নেতা জিসানকে নিয়ে কথা বলায় দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল
  • ১৮ জুন ২০২৬
খুলনায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দম্পতি গ্রেপ্তার
  • ১৮ জুন ২০২৬
কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে ওয়ালটন, আবেদন অভিজ্ঞতা ছ…
  • ১৮ জুন ২০২৬