বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
পদোন্নতির দাবিতে গত ১০ মে দ্বিতীয়বারের মতো অ্যাকাডেমিক শাটডাউন ঘোষনা করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকরা। এ শাটডাউন কর্মসূচির আওতায় ফাইনাল পরীক্ষাও রয়েছে। যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা না হওয়ায় অদূর ভবিষ্যতে সেশনজট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পরীক্ষা হবে কি হবে না এ নিয়ে অনিশ্চিয়তা দিন পার করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাশাপাশি বাড়ছে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ। চলমান শাটডাউনে আওতায় অনিশ্চিত ক্লাস-পরীক্ষায় এক প্রকার মানসিক চাপে কোণঠাসা ও উদ্বিগ্ন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
হাসিবুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষকদের আন্দোলনে আমাদের ক্লাস এবং পরীক্ষার কার্যক্রম দুইটাই বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা খুবই হতাশ, পূর্বেজট এখনো বিশ্ববিদ্যালয় কাটিয়ে উঠতে পারে নাই, এখন যে দীর্ঘমেয়াদী জট তৈরি হবে পরীক্ষা না হওয়ার কারণে। শিক্ষার্থীরা এগুলা থেকে অবসান চাই। শিক্ষকদের কাছে আমাদের অনুরোধ তারা যাতে অন্তত পক্ষে পরীক্ষা গুলা চালু রেখে বাকি অন্য কোনো আন্দোলনের পন্থা থাকলে তারা সেটা বের করুক।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শাটডাউনের কারণে আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। টিউশন আর পরিবার থেকে পাওয়া সামান্য টাকায় কোনোভাবে চলতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত একদিন থাকাও আমাদের জন্য বড় বোঝা। চলমান শিক্ষকদের আন্দোলনের খেসারত কেন শিক্ষার্থীদের দিতে হবে?’
আরও পড়ুন: অর্ধ ডজন বিশ্ববিদ্যালয় নতুন ভিসি পাচ্ছে কাল?
তিনি আরও বলেন, ‘শাটডাউনের কারণে অনার্স শেষ বর্ষ ও সেমিস্টার পদ্ধতির শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ থাকায় সেশনজট আরও বাড়বে। আমাদের এই মূল্যবান সময় নষ্টের দায়ভার কে নেবে?’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত মোট ৩২টি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি। দ্বিতীয় শাটডাউনে ১১টি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এছাড়া আগামী ১৪মে নির্ধারিত ১৪টি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষাও এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে আন্দোলন সাময়িকভাবে শিথিলের সময় স্থগিত হয়ে যাওয়া বেশ কিছু পরীক্ষার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল, সে সময় স্থগিত বেশকিছু পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাযযাদ উল্লাহ মো. ফয়সাল বলেন, আমরা যথাসময় উত্তর পত্র পরীক্ষার হলগুলোতে পাঠাচ্ছি। কিন্তু স্যাররা পরীক্ষা নিচ্ছেন না, উত্তর পত্র ফেরত আসতেছে। স্যাররা পরীক্ষা না নিলে এখানে আমাদের কিছু করার থাকে না।
উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেন, গত সিন্ডিকেট সভায় আমরা একটি সুন্দর সমাধান করেছিলাম। তবে আজকে চেয়ারম্যান ও ডিনদের সাথে আলোচনা করার জন্য একটি বার্তা প্রেরণ করেছি।