শিক্ষকদের আন্দোলনে দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা, ব্যাহত অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৮ PM
 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যলয় লোগো

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যলয় লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে দেশের দুই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে। পদোন্নতির দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ এবং কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শিক্ষকের একযোগে পদত্যাগের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় দুটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হওয়া পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতির ফলে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। 

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্য নানা অজুহাতে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক রয়েছেন। এর আগে ১০ এপ্রিল উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দিলেও কোনো সমাধান না আসায় গত ১৯ এপ্রিল থেকে সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন আমরণ অনশন শুরু করেন।

পরবর্তীতে সোমবার অনশন ভেঙে শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও ‘কম্পিলিট অ্যাকাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বৃহস্পতিবার এক মতবিনিময় সভার পর আন্দোলনরত শিক্ষকরা চলমান পরীক্ষাগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

শিক্ষকদের এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি নির্দেশনাকে দায়ী করা হচ্ছে। ইউজিসির ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী চাকুরি, পেনশন, পদোন্নতি, পর্যায়োন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট সংবিধি, বিধি, প্রবিধি ইত্যাদি সংশোধন ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। পরবর্তীতে কেবল অনুমোদিত সংবিধি অনুসারে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়োন্নয়ন দেওয়া যাবে’। 

তবে শিক্ষকদের দাবি, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, পরীক্ষা ও ডিগ্রি প্রদানের ক্ষেত্রেও চ্যান্সেলর অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট সংবিধি নেই। ফলে ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল পদোন্নতিই নয়, শিক্ষার্থীদের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম ও অর্জিত ডিগ্রিও ভবিষ্যতে আইনি সংকটে পড়তে পারে। 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘সংকট নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে। আমি এই মুহূর্তে ঢাকাতে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লানিং কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছি। আজই বরিশাল ফিরব। ইউজিসি ভালো একটা সমাধান দিয়েছে। আগামীকাল শিক্ষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ আলোচনা করব।’ 

এদিকে, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ ও ‘অযৌক্তিক চাপের’ অভিযোগে ২০ জন শিক্ষক তাদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রাকিবুল আলম, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সাবাব জুলফিকার, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান আসমা আক্তার সুমি ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবীরসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রক্টররা রয়েছেন।

আরও পড়ুন: স্ক্রিনে ভেসে উঠবে প্রশ্ন, মূল্যায়ন হতে পারে চুল আঁচড়ানো দেখেও

ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাকিবুল আলম জানান, ‘আজ থেকে আমি সহকারী প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ও চেয়ারম্যানের দায়িত্বে নেই। কিছু কারণে এই দায়িত্বগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। তবে শিক্ষক হিসেবে সবসময়ই শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।’ 

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘শিক্ষকরা তাদের মানসিক ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়টি লিখিতভাবে তুলে ধরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারকে অবহিত করা হয়েছে। নানা অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের একটি বড় অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আগামী কর্মদিবসে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার পর স্পষ্ট জানা যাবে।’ 

কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দিলীপ কুমার বড়ুয়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আশা করছি আজকের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে। আজ বিকাল ৩টায় শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিং রয়েছে। আশা করছি, এই মিটিংয়েই সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় দুটির হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেশনজটের আশঙ্কায় পড়েছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে আমাদের প্রতিটি বিভাগই কমবেশি সেশনজটের কবলে রয়েছে। ঈদের ছুটির আগেই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকলেও এখন সব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’

জিএসটি গুচ্ছের প্রথম পর্যায়ের প্রাথমিক ভর্তি শেষ হচ্ছে আজ
  • ১০ জুন ২০২৬
বালের্দির বদলি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে রদ্রিগেজ!
  • ১০ জুন ২০২৬
ছাগল পিটিয়ে আহত করায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে থানায় জিডি
  • ১০ জুন ২০২৬
সিটি ব্যাংক নিয়োগ দেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, আবেদন অভিজ্ঞ…
  • ১০ জুন ২০২৬
দুই স্কুলছাত্রীর পর নিখোঁজ আরও দুই কিশোরী উদ্ধার, নেপথ্যের …
  • ১০ জুন ২০২৬
আলভারেজকে দলে নিতে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব রিয়াল মাদ্রি…
  • ১০ জুন ২০২৬