উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল

শিক্ষককে বাসায় ডেকে হেনস্তা-ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ বিচারপতির বিরুদ্ধে, প্রতিবাদে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ PM , আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩ PM
শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীরা। © টিডিসি ফটো

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষককে বিচারপতির বাসায় ডেকে নিয়ে হেনস্তা ও শিক্ষার্থীর কাছে জোরপূর্বক ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযুক্ত বিচারপতির শাস্তির দাবিতে আজ রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে কাকরাইলে বিচারপতি কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠান প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) আ ন ম শামসুল আলমকে স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা লিখেন, ‘গত ১৬ এপ্রিল দশম শ্রেণির ক্লাস চলাকালে রেজা নামে এক ছাত্র দয়াল চন্দ্র পালের কাছে পড়া বুঝতে চায়। এসময় শিক্ষককে কাছে ডেকে বইয়ের একটি লাইন বুঝিয়ে দিতে বলে। শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পড়া বুঝিয়ে দিতে কাছে গেলে ওই ছাত্র তার গোপনাঙ্গে হাত দেয় এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। প্রথমবার শিক্ষক বিষয়টি বুঝতে না পারলে রেজা একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। এ সময় শিক্ষক দয়াল চন্দ্র উত্তেজিত হয়ে ওই ছাত্রকে তিনটি চড় মারেন। ঘটনাস্থলেই ছাত্র রেজা শিক্ষককে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে। পরে ছাত্রের বিচারপতি পিতা স্কুল কর্তৃপক্ষসহ দয়াল চন্দ্রকে তার বাসভবনে ডেকে নেন। এ সময় ছাত্রের পিতা ও মাতা ওই শিক্ষককে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা তাকে (শিক্ষক) পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন।’ এমনকি বিচারপতি ওই শিক্ষককে মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখারও ভয় দেখান বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। 

এ বিষয়ে সিয়াম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী যখন নীতি-নৈতিকতা শিখবে তখন বাবার পরিচয়ে উল্টো শিক্ষককে হেনস্তা করছে। এমনকি বাসায় ডেকে নিয়ে পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর মতো ঘৃণিত ঘটনাও সে ঘটিয়েছে। এ ঘটনা পুরো স্কুল জেনে গেছে। কোনো কথা ছাড়াই আমরা শিক্ষক হেনস্তার বিচার চাই। এজন্য আমরা প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি দেব। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক দয়াল চন্দ্র পাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বৃহস্পতিবার ক্লাসে ওই শিক্ষার্থী আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে। বিষয়টি আমি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাই। পরে আমি তার বাবাকে স্কুলে এসে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলি। ১৭ এপ্রিল তিনি আমাকে নিয়ে স্কুলের অন্য এক শিক্ষককে তার বাসায় যেতে বলে। তবে ওই শিক্ষক যেতে অস্কীকৃতি জানায়। তবুও তারা বাসায় যেতে চাপ প্রয়োগ করে। সেখানে ছাত্রের সামনেই আমাকে ওই বিচারপতি ও তার স্ত্রী মানসিকভাবে হেনস্তা করে। একপর্যায়ে আমাকে পায়ে ধরে ক্ষমা চাইতে বলে। পরে আমি উঠে দাড়াই এবং সরি বলে সেখান থেকে চলে আসি। 

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুলে আসেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) মাসুদ আলমসহ পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা। বিকেল ৩টার দিকে তারা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ ন ম শামসুল আলমের কক্ষে বৈঠক করেন। 

এ সময় শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বলেন, যে বিচারপতি নিজের সন্তানের বিচার করতে পারে না, সে কীভাবে দেশের বিচার করবে? আমরা এই কর্মসূচি থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি নিয়ে যাব। সেখানে আমাদের পাঁচজন শিক্ষার্থী, পাচঁজন শিক্ষক, প্রিন্সিপাল এবং দুইজন ব্যাচ প্রতিনিধি থাকবেন। আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই বিচারপতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অন্যথায় আবারও আমরা বিচারপতি ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এ সময় ডিসি মাসুদ শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে তাদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি নিয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দেন।

ছাত্রীর মরদেহের পাশে চিরকুট, বাবার মামলায় ঢাবি শিক্ষক গ্রেপ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
মহাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য,…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বজ্রপাতে সাত জেলায় একদিনে ১৪ জনের মৃত্যু
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
হত্যাকাণ্ডের শিকার বিসিএস কর্মকর্তা বুলেট, আটক ৪ 
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
কারে বাইকের ধাক্কা, তিনশ ফিটের সড়কে গেল দুই এইচএসসি পরীক্ষ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬