বেরোবির শিক্ষার্থী পরিবহনের বাস © ফাইল ছবি
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) পরিবহন ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বাস নির্ধারিত স্থানে না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন। এসব কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। এছাড়াও পীরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের যাত্রী তোলে। বাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্য গাড়িও চলছে—তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এ অজুহাত কেন? এ নিয়ে প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে।’
জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। এছাড়াও পীরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের যাত্রী তোলে। বাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ তামি বলেন, ‘ক্যাম্পাস থেকে পীরগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বাসে স্থানীয় যাত্রী তোলা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাসটি ওভারব্রিজ দিয়ে যাওয়ায় নিচে থাকা শিক্ষার্থীরা বাসে উঠতে পারে না। ফলে তাদের যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এছাড়াও চালক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।’
‘শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি?’ এমন প্রশ্ন করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজে গাড়ি চললেও মুমূর্ষু শিক্ষার্থীর প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া চরম অব্যবস্থাপনা ও অমানবিকতার প্রকাশ। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এমন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার অধিকার কারও নেই। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে নিরবচ্ছিন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের স্বচ্ছ ও স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দাবি করছি।’
আরও পড়ুন: আবারও গণরুম-গেস্টরুম ফেরার শঙ্কা কেন শিক্ষার্থীদের?
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ. এম. এম শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তেল, চালক অর্থাৎ গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে, আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়, সেখানেও তিনদিন তেল নেই। পরে পেয়েছে।’
এ বিষয়ে পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করবে, না করবে- তা সম্পূর্ণভাবে মেডিক্যাল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে।’ এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।