আবু সাঈদ © সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক উপাচার্যসহ বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভিতে এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
রায়ে পুলিশের এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ এবং দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামানকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও সাবেক এডিসি মারুফকে ৫ বছর এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ছাত্রলীগের আরও ছয় নেতাকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জনই পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ৬ আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। গত বছরের ২৪ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় এবং ২৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আবু সাঈদের মেজো ভাই আবু হোসেন এজলাসে প্রবেশের সময় বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দ্রুত রায় বাস্তবায়ন করা হোক—এটাই আমাদের দাবি।’
প্রায় দুই বছর পর ঘোষিত এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদ হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার একটি বড় ধাপ সম্পন্ন হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।