আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ঈদ উদযাপন © টিডিসি ফটো
ঈদ উৎসব সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় আনন্দ, মিলন ও সম্প্রীতির এক বিশেষ উপলক্ষ্য হলেও বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের জন্য এর অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) আদিবাসী শিক্ষার্থীরা, যারা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, ঈদের এই ছুটিটি তারা উপভোগ করছেন নিজেদের পরিবারের সঙ্গে নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য পালনের মাধ্যম।
এই বিষয়ে ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের স্নেহা স্নাল জানান- ‘আমরা আদিবাসী শিক্ষার্থীরা অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এসে পড়াশোনা করছি। সব ছুটিতে বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠে না। কখনো ছুটি কম থাকে, আবার কখনো একাডেমিক চাপ, পরীক্ষা বা ল্যাব পরীক্ষার কারণে ব্যস্ত থাকতে হয়।
তবে এবারের ঈদের ছুটিতে প্রায় সব শিক্ষার্থীই বাড়িতে যেতে পেরেছে। ঈদের আনন্দ মানেই ঘরে ফেরা। সবাই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে এবং পরিবারের সঙ্গে আবার একত্রিত হতে পেরেছে- এটাই আসলে ঈদের প্রকৃত আনন্দ।’
ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী যনাথন হাসদা বলেন, ‘ঈদ বাংলাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান ও বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এটি এখন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়; বরং আনন্দ, মিলন, ক্ষমা এবং ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ঈদের সময় সারাদেশে এক ধরনের ব্যস্ততা তৈরি হয়, যার অন্যতম হলো দূর-দূরান্তে থাকা মানুষের ঘরে ফেরা। প্রিয়জনের সঙ্গে একত্রে ঈদ উদযাপনের এই রীতি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে এক গভীর আত্মিক বন্ধন তৈরি করে এবং ঈদের আনন্দকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে ‘
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঈদের প্রভাব কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক ও জাতীয় জীবনেও বিস্তৃত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা এই উৎসবের নানা দিক প্রত্যক্ষ করি। তবে এই মূলধারার ভিড়ে অনেক সময় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে আদিবাসীদের জীবনধারা ও ঈদ-অনুভূতি আড়ালেই থেকে যায়। তবুও ঈদের ছুটির সময়টিতে তাদেরও নিজস্ব বাস্তবতায় পরিবার ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন- যদিও আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা ঈদ সরাসরি ধর্মীয় উৎসব হিসেবে নয় বরং ছুটির সময় হিসেবে কাটান যেখানে তারা পারিবারিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক রীতি ও দৈনন্দিন জীবনের ভিন্নতা নিয়ে সময় কাটান। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনে ঈদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মেলা ও সামাজিক আয়োজনের মাধ্যমে তাদের অংশগ্রহণ ও আনন্দের পরিসর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।'
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসপেল চাকমা জানান- ‘পাহাড়ি অঞ্চলে ঈদ উদযাপন সমতল এলাকার তুলনায় আলাদা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বহন করে। এখানে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক অনন্য পরিবেশ গড়ে ওঠে। পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী বিঝু -সাংগ্রাই-বৈসুক (বৈসাবী) উৎসবের মতোই ঈদও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য। সবাই একত্রে মিলিত হয়ে ভেদাভেদ ভুলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়।’
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটি মাভাবিপ্রবির আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল বিশ্রাম, পারিবারিক সংযোগ ও নিজেদের সংস্কৃতিকে ধারণ করার এক সুন্দর সময়।