ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মিলেমিশে বিএনপি-জামায়াত-আওয়ামী-বামপন্থী ১৮০ অধ্যাপকের জায়গা শিক্ষক পদোন্নতি বোর্ডে

আছেন বিতর্কিত ভিসি ড. আসকারীও

০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০০ PM , আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:১৯ PM
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৩৬টি বিভাগে শিক্ষক পদোন্নতি (নিয়োগসহ) বোর্ডের জন্য সদস্য ও বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রতিটি বিভাগে দুইজন সদস্য ও তিনজন বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮০ অধ্যাপককে এই মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগামী তিন বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বাছাই বোর্ডে উপস্থিত থাকবেন এসব অধ্যাপকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে এই তালিকাটি চূড়ান্ত করে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ এর প্রথম সংবিধির ৯(১) (খ) (গ) ও ৯(৪) ধারা অনুযায়ী ৩৬টি বিভাগে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের বাছাই বোর্ডে প্রতিটি বিভাগের বিপরীতে সদস্য ও বিশেষজ্ঞ সদস্যদেরকে ৩ বছরের জন্য নির্দেশক্রমে মনোনয়ন প্রদান করা হলো।

মনোনয়ন তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, মনোনয়ন দেওয়া অধিকাংশ শিক্ষক ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। তাদের বড় একটি অংশ স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি-জামায়াত-বামপপন্থীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

তা ছাড়াও এই তালিকায় স্থান হয়েছে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে নানা বির্তকিত কাজ করে সমালোচিত হওয়া শিক্ষকরাও। এই তালিকায় রয়েছে এক বিভাগের বোর্ডে অন্য বিভাগের শিক্ষক, একই বিভাগের নিয়োগ বোর্ডে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই মনোনীত করা, আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক, অধ্যাপকের বোর্ডে সহযোগী অধ্যাপক ও পিএইচডি না থাকা শিক্ষকসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। 

অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি বোর্ডের এই প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তারা এ-ও বলছেন, আগামীতে এসব বোর্ড থেকে বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকেই এই দায় নিতে হবে।

জানা যায়, ৫ আগস্টের পর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইবির ১৪তম উপাচার্য হিসেবে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তবে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। তা ছাড়াও ২০২২ সালে ঢাবির পিএইচডি গবেষণা অভিসন্দর্ভের (থিসিস) জালিয়াতি রোধে নীতিমালার জন্য হাইকোর্ট থেকে গঠন করা সাত সদস্যের কমিটিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ অন্যান্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।

এ বিষয়ে নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র এক অধ্যাপক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ মূলত জামায়াতপন্থী শিক্ষক। তবে বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ইবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও ঢাবি, চবি, জাবি, রাবি, খুবি, বুয়েট, রুয়েট, যবিপ্রবি, মাভাবিপ্রবি, পবিপ্রবির শিক্ষকদের নাম রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সমালোচিত এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষক রয়েছেন যারা বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষক রাজনীতি ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন। চব্বিশের রক্তাক্ত জুলাই অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পরেও কীভাবে আওয়ামী সরকারের সমর্থনদাতা এসব শিক্ষক মনোনয়ন পেলেন, কে তাদের এভাবে পুনর্বাসিত করছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ ছাড়াও, নিয়োগ বোর্ডে আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে কিনা, তা নিয়েও সন্দিহান সংশ্লিষ্টরা। 

জানা গেছে, ইবির ইংরেজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন কট্টর আওয়ামী শিক্ষক ও ইবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী। আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি ভিসির পাশাপাশি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবেও নিয়োগ পেয়েছিলেন। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের বোর্ডের সদস্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাসিম রেজা, তিনিও আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম। তার বড় ভাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ড. সেলিম তোহা।

আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের বোর্ডের সদস্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, যিনি হলুদ দল থেকে ডিন নির্বাচন করেছিলেন। আওয়ামী লীগের আমলে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পদে নিয়োগও পেয়েছিলেন। কিন্তু ডিন হয়ে যাওয়ায় আর ভিসি পদে যোগদান করেননি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞানের অপর শিক্ষক ড. মোহাম্মদ আবুল মনছুর ইবির এই বিভাগের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। এ ছাড়াও চবির একই বিভাগের ড. এন এম সাজ্জাদুল হক বর্তমানে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে থাকলেও তিনি মূলত অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষক। তাকেও রাখা হয়েছে ইবির শারীরিক শিক্ষার নিয়োগ বোর্ডে। 

এ ছাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইবির নিয়োগ বোর্ডে মনোনয়নপ্রাপ্ত আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য জাবির মার্কেটিং বিভাগের ড. খাশেদুল ওহাব তুহিন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ সদস্য জাবির লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. নুরুল আমিন এবং ইংরেজি বিভাগের ড. আহমেদ রেজা। তারা প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের পাশাপাশি ইংরেজির ড. আহমেদ রেজা টিএসসির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফোকলোর স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে মনোনীত ড. রাশেদা আকতার ছিলেন জাবির সদ্য পদত্যাগী ট্রেজারার যিনি সরকার পতনের পরে ১৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন।

এ ছাড়াও, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকে ইবির নিয়োগ বোর্ডে মনোনয়ন পাওয়া বিরাট সংখ্যক শিক্ষকের আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। জানা যায়, আওয়ামী সুবিধাভোগী ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ড. আখতার হোসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও শাসনামল নিয়ে বই লিখেছেন। রাবিতে কট্টর আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত অর্থনীতি বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন পাওয়া অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন আওয়ামী আমলের সিন্ডিকেট সদস্য এবং ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইবির হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন পাওয়া রাবির ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. জাফর সাদিক সরকার পতনের পরে ৮ আগস্ট রাকসু কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই বিভাগের অপর সদস্য ড. সাইফুল ইসলামও আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষকদের অন্যতম। 

এ ছাড়াও, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য ড. সুলতান মাহমুদ শেখ মুজিবকে নিয়ে বই লিখেছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত হলুদ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং এখনো শ্রেণিকক্ষে আওয়ামী বন্দনা করেন। আওয়ামী প্যানেল থেকে নির্বাচিত সাবেক দুই ডিন আইন বিভাগের ড. মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আবু বকর মোহাম্মদ ইসমাইল যথাক্রমে ইবির আইন বিভাগের এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।৷ এ ছাড়া, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য রাবির আরবি বিভাগের ড. মুহা: উবাইদুল্লাহ, গণিত বিভাগের ড. জুলফিকার আলী, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ড. এম মিজানুর রহমান এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান ও ড. মামুন-উর-রশিদ খন্দকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এখানেই শেষ নয়। নিয়োগ বোর্ডে আওয়ামী মতাদর্শের শিক্ষকদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গও। আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য রাবির উর্দূ বিভাগের আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিভাগীয় সভাপতি থাকাকালে বিভাগের তহবিল থেকে তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা মোট ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮০ টাকা উত্তোলন করলেও এ বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের দিন তিনি উক্ত টাকার কোনো হিসাব ও ভাউচার জমা দেননি। যার প্রেক্ষিতে গত ২২ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

এ ছাড়াও, ইবির হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের বোর্ডে সদস্য ও বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে মনোনীত রাবির অধ্যাপক ড. দিলআরা হোসেন ও অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। এ ছাড়াও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বোর্ডে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন রাবির আইবিএ বিভাগের মো: আতিকুল ইসলাম। তিনি মূলত সহযোগী অধ্যাপক হলেও এবং পিএইচডি ডিগ্রি না থাকলেও তালিকায় তাকে অধ্যাপক ও ড. হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মালিকা সুলতানার ক্ষেত্রে। তিনি সহযোগী অধ্যাপক হলেও তাকে অধ্যাপক হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থান পেয়েছেন অধ্যাপক ড. আকা ফিরোজ আহম্মেদ, অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, অধ্যাপক ড. রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক, অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। তারা সবাই বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাদা দল ও  বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। 

জানতে চাইলে বিএনপিপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ইবির সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব, সাদা দল সবাই একসাথে ভিসির সাথে দেখা করেছি।

‘‘তিনি জানান যে, এই তালিকাটি মন্ত্রণালয় থেকে করেছে। তখন আমরা বলি যে প্রথমে তো তালিকা এখানে থেকে পাঠানো হয়েছে। তখন তিনি বলেন যে, তিনি জানেন না। তবে সাবেক ভিসি আসকারীর নাম উনিই পাঠিয়েছেন। এটা তিনি বলেছেন। আমরা বলেছি যে, আপনার তো অংশীজনদের সাথে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কারণ গত ১৭ বছর আমরা কেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি তা তো উনি জানেন না। আমরা এ-ও বলেছি যে, এই তালিকা শিক্ষা উপদেষ্টা করলে আমরা তারও পদত্যাগ দাবি করব। উনি লোয়ার বোর্ডের তালিকা কাউকে দেখাননি। আমরা জানিও না কারা আছেন সেখানে।’’

ইবির সাদা দলের এই আহবায়ক আরও বলেন, এসব কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার উপাচার্যের। পূর্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডটা ছিল আইওয়াশ, অনেকেই টাকা সংগ্রাহকের ভূমিকায় থাকতো। এবারে পদোন্নতি বোর্ডেও বিতর্কিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যেখানেও আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আমরা স্পষ্ট বলেছি, যদি কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের মতো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটে তাহলে সাথে সাথেই নিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে, তিনি আর নিয়োগ দিতে পারবেন না। উনার ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের অংশীজনদের সাথে বসা উচিত ছিল কিন্তু উনি অন্য কারো সাথে আলোচনা করেছেন কিনা আমি জানি না তবে আমাদের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি; উনি সম্পূর্ণ নিজের মতো করেছেন এটা।

ইবির জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, নিয়োগ বোর্ডে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিষয়টি জানিয়েছি। তবে ভিসি এগুলো স্বীকারও করেছেন এবং বিষয়টা দেখবেন বলেছেন। তিনি কীভাবে দেখবেন আমি জানি না। তবে শুনেছি তিনি বোর্ডগুলো তাদের দিয়েই করছেন এবং কেউ না আসতে পারলে অনলাইনে করার ব্যবস্থা করছেন। তিনি মন্ত্রণালয়ের কথা বলেছেন তবে মন্ত্রণালয়ের এখানে কিছু বলার মতো থাকার কথা না কারণ উনারা শিক্ষকদের লিস্ট নিয়ে ডিল করেন না। এখান থেকে যেটা প্রস্তাব পাঠানো হয় সেটাই তারা গ্রহণ করে। এভাবেই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত হবে এবং অবশ্যই প্রশ্ন করার জায়গা থেকে যায়। 

তিনি আরো বলেন, যখন উনি (উপাচার্য) ফ্যাসিস্টদের নিয়ে নিয়োগ বোর্ড তৈরি করেছেন তখন বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গা থেকে আমরা একটু সংশয়ে ভুগছি। অতীতের মতো আর্থিক অনিয়মের যৌক্তিক অভিযোগ উঠলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিও আমরা করেছি। রক্তাক্ত একটা বিপ্লবের ১ বছর যেতে না যেতেই নিয়োগ বোর্ডের মতো সেনসিটিভ ইস্যুতে তারকাচিহ্নিত ফ্যাসিস্টদের স্থান দেওয়া আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা একথা বললেও তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। ব্যক্তিগতভাবে আমার চাকরি জীবনের প্রায় ৩০ বছর হলো, তবে এই ধরনের এলোমেলো হায়ার বোর্ড তৈরি করতে আমি কখনো দেখিনি। এটি সম্পূর্ণ একটি ব্যতিক্রমধর্মী হায়ার বোর্ড। 

সার্বিক বিষয়ে ইবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ডাকসু থেকে জকসু: ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবিরের জয়রথ থামল না
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
‘অপরাধীদের আশ্রয় দিতে দিতে ভারত এশিয়ার ডাস্টবিনে পরিণত হয…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নিয়ে নতুন নির্দেশনা
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রয় ‘অনির্দিষ্টকাল’ নিয়ন্ত্রণ করবে যুক্ত…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
হাদি-বিশ্বজিত-খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের বিজয় উৎসর্গ করলেন…
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
জকসু নির্বাচনে যে ৫ পদে হারল শিবির
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২৬