কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত
বাংলার সমতট অঞ্চল, ইতিহাস আর প্রত্নতত্ত্বে সমৃদ্ধ কুমিল্লা। এখানে দাঁড়িয়ে আছে সহস্র বছরের প্রাচীন নিদর্শন শালবন বিহার। ময়নামতির মাটির গর্ভে লুকিয়ে থাকা গুপ্তযুগের ইট, নকশা, অলংকার আর বৌদ্ধ স্থাপত্য আজও সাক্ষ্য দেয় এক উজ্জ্বল সভ্যতার। ময়নামতি জাদুঘর সেই অতীতের আলো হাতে নিয়ে আমাদের বর্তমানকে জানিয়ে দেয়, আমরা কোথা থেকে এসেছি। সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্যের আভিজাত্য ও নৈস্বর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আশ্রয় করে দাঁড়িয়ে আছে এক আধুনিক শিক্ষালয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই প্রাচীন সভ্যতার পাশেই বিস্তৃত লালমাই পাহাড়। বসন্তে যার বুকে ফুটে ওঠে গুলমোহরের আগুনরঙা ফুল, বর্ষায় ঝরে পড়ে সপ্তরঙা শিশির, শীতে শিউলি আর শরতের কাশফুলে সাজে তার ঢালু পথ। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাদদেশে গড়ে উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি একটি আধুনিক বিদ্যাপীঠ, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু জ্ঞানই অন্বেষণ করে না, বরং প্রাচীন ও আধুনিকের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে তাদের মনন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় কুড়ি বছর পূর্বে। খুব বেশি দিনের নয় এই পথচলা, তবু স্বল্প সময়ে এটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রাণকেন্দ্র। শালবন বিহারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এই প্রতিষ্ঠানকে যেন মনে হয় ইতিহাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের এক অঙ্গীকার। একদিকে আছে হাজার বছরের প্রত্নতত্ত্ব, অন্যদিকে জ্ঞানের আলোয় সজ্জিত ক্যাম্পাস।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। 'শিক্ষাই জ্ঞান' নীতিবাক্য ধারণ করে এটি ২০০৬ সালের ২৮ মে যাত্রা শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬টি অনুষদের ১৯টি বিভাগে শিক্ষাদান করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
জানা যায়, গত শতাব্দীতে বৃহত্তর কুমিল্লার সন্তান কবি মীর আব্দুস শুকুর আল মাহমুদ তার 'দিনযাপন' বইয়ে এক স্বপ্নকে সস্নেহে তুলে ধরেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, প্রাচীন আমলের শিক্ষার আতুড়ঘর শালবন বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া খুবই জরুরি।
শিক্ষার্থীরা যখন ক্যাম্পাসের বাইরের রাস্তা দিয়ে হাঁটে, তখন চোখে পড়ে শালবনের পোড়া ইটের দেয়াল, কানে আসে পাখির ডাক, দুটো চোখ জুড়িয়ে যায় লালমাই পাহাড়ের সবুজের সমারোহে। এই পরিবেশ শিক্ষাকে করে তোলে আরও জীবন্ত, আরও সৃজনশীল।
এখানে শিক্ষার্থীরা আসে জীবনকে বোঝার জন্য, ইতিহাসকে অনুভব করার জন্য, সংস্কৃতিকে আপন করার জন্য। শালবন বিহার যেখানে অতীতের ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে ভবিষ্যৎকে উন্মোচন করার পথ দেখায়।
কুমিল্লার আকাশে তাই একসঙ্গে জ্বলে ওঠে দুই আলো; একটি অতীতের, আরেকটি ভবিষ্যতের। মাঝখানে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন সেতুবন্ধন রচনা করে ইতিহাস, প্রকৃতি আর জ্ঞানের।