জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে বিশ্বকে আলোকিত করার প্রস্তুতি গ্রহণের শ্রেষ্ঠ সময় হলো ছাত্রজীবন। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান-গবেষণার তীর্থ স্থান। এ তীর্থ স্থান থেকে যে যত বেশী জ্ঞান সম্পদ আহরণ করতে পারবে সে তত বেশী আলোকিত মানুষ হয়ে নক্ষত্রের মতো বিশ্বে আলো ছড়াবে। এমনই বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।
সোমবার সকাল ১০টায় চবি কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত আরবী বিভাগের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।
উপাচার্য নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, জ্ঞান নির্ভর সমাজ প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ভান্ডার থেকে নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞান আহরণে ব্রতী হয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও আলোকিত মানব সম্পদে পরিণত হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার এখনই সময়। আরবী বিভাগ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল একটি বিভাগ। এই বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ জ্ঞান-গবেষণায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের বিভাগের গুণী শিক্ষকদের সান্নিধ্যে থেকে সময়ের প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে পঠন-পাঠনে মনোনিবেশ করে নিজেদের জ্ঞান ভান্ডারকে অধিকতর সমৃদ্ধ করার আহবান জানান।
উপাচার্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান ভান্ডার থেকে জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে নিজেদের অধিকতর সমৃদ্ধ করে নতুন জীবনে অবগাহন করতে চলেছে। বিদায়ী শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও সততা দিয়ে নিজেদের জীবনকে যতবেশি আলোকিত করবে এ দেশও তত বেশি আলোকিত হবে; সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। উপাচার্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিকতা, নান্দনিকতা, সৃজনশীলতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সকল অন্ধকারকে দূরীভূত করে বিশ্বময় আলোর প্রজ্বলন ঘটানোর আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিভাগের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
চবি আরবী বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর সভাপতিত্বে এবং সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নূর হোসাইনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিভাগের প্রফেসর ড. রফিক আহমদ, প্রফেসর ড. আ ক ম আবদুল কাদের, প্রফেসর ড. আ স ম আবদুল মান্নান চৌধুরী এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী। এতে বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।