চবিতে মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক নাম্বার গেট সংলগ্ন এলাকায় বুধবার রাত ১১টার দিকে চবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এম.এম. এইচ. হৃদয়কে একটি পিকআপ ভ্যান চাপা দেয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতেই তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নাম্বার গেট, ফতেয়াবাদসহ মূল সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি জিরো পয়েন্ট তথা মূল গেটে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ এবং বিক্ষোভ সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে গুরুতর আহত হয়ে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আহত হৃদয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন সিভিল ড্রেসে এম্বুলেন্স ভর্তি পুলিশ এসে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীরা পুনরায় আন্দোলন চালায়। এসময় তারা ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন, জবাব চাই। পুলিশের হামলা কেন? প্রশাসন, জবাব চাই’- এমন স্লোগান দিতে থাকে। পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ রাত তিনটার দিকে বিক্ষোভ স্থগিত করে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
আহতরা হলেন, লোকপ্রশাসন ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলী, গণিত ১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ তানজিম ও একই সেশনের আল আমিন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে চবির শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে চবি ছাত্রলীগ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। এসময় শিক্ষার্থীদের প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জকারী পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ-সাহিত্য সম্পাদক ইমাম উদ্দিন ফয়সাল পারভেজ ও ছাত্রলীগ নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন থেকেই নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এবার পুলিশ প্রশাসনও কোনোপ্রকার অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধর করে। আমরা ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ও এস আই হাবিবের অপসারণের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি ১ নাম্বার গেটে ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ এবং দুটো স্পিড ব্রেকার তৈরির দাবি জানিয়েছি।
এ ঘটনায় প্রক্টর অধ্যাপক আলী আজগর চৌধুরী শিক্ষার্থীদের দাবী মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন। বলেন, পুলিশ আমাদের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই ছাত্রদের মারধর করেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসবো। পাশাপাশি খুব সহসাই স্পিড ব্রেকার বসানো হবে। এছাড়া ফুট ওভার ব্রিজ যেহেতু সময় সাপেক্ষ ব্যাপার তাই সেটা সময় নিয়ে করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।