কেক কেটে উদ্বোধনের সময় © টিডিসি ফটো
উৎসাহ উদ্দীপনা ও বর্ণীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উদযাপন উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে বেলুন-ফেস্টুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানোর মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। দুইদিন ব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে শুক্রবার পর্যন্ত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ও চবি রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ড. হাছান মাহমুদ, এম.পি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, পিকেএসএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাবেক মাননীয় মুখ্য সচিব জনাব মো. আবদুল করিম ও চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম।
তথ্যমন্ত্রী তার ভাষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে এ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে উপস্থিত থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও গৌরবান্বিত মনে করেন। তিনি উপস্থিত চবির বর্তমান সুযোগ্য মাননীয় উপাচার্য এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ, বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
মন্ত্রী বলেন, এ বিভাগের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এ বিভাগের প্রতি রয়েছে নাড়ীর সম্পর্ক। যা কখনও ভুলে যাবার নয়। মন্ত্রী চবির প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষাসহ ৫০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে উপাচার্যের কাছ থেকে জেনে অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। বলেন, এ বিভাগের প্রতিথযশা শিক্ষক-গবেষকবৃন্দের নিরবচ্ছিন্ন পাঠদান, জ্ঞান সৃজন ও বিতরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে বিজ্ঞানের নব আবিস্কারে অবদান রাখছে। যা এ বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষা-গবেষণার একটি পরিপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীকে দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধ ও মূল্যবোধ অর্জন করে পরিপূর্ণ আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনা করতে চাইলে স্বপ্নের মানুষ হতে হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে নিয়ে সর্বদা স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এদেশ অনেক আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে অবস্থান করত। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর যুগোপযোগী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ফলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন-অগ্রগতির বিভিন্ন সূচকে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অনেক এগিয়ে গেছে।
মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের জ্ঞান-গবেষণায় সমৃদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় সামিল হয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশ-জাতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহবান জানান। প্রধান অতিথি অতিথিদের সাথে নিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের কেক কাটেন।
এছাড়া উপাচার্য তার ভাষণে রসায়ন বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে আগত মাননীয় তথ্যমন্ত্রী, বিশেষ অতিথিবৃন্দ এবং রসায়ন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সবুজ ক্যাম্পাসে স্বাগত ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
উপাচার্য বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রসায়ন বিভাগ হাটি হাটি পা পা করে দীর্ঘ ৫০ বছর অতিক্রম করেছে। শুরু থেকে এ বিভাগে বহু জ্ঞানীগুণী পন্ডিত শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও বিজ্ঞান মনস্ক আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদন করে চলেছে। এ বিভাগের প্রাক্তন কৃতি শিক্ষার্থীবৃন্দ দেশ-বিদেশের সরকারী-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচুঁপদে অধিষ্ঠিত থেকে তাদের লব্দ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অবদান রেখে চলেছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের।
চবি রসায়ন বিভাগের সভাপতি ও সুবর্ণ জয়ন্তী আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মনির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও প্রফেসর ড. এস এম আবে কাউছার-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির কো-কনভেনর ড. শাহানারা বেগম। অনুষ্ঠানে বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মানিত অতিথিবৃন্দকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে চবি বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইন্সটিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ, এলামনাই এসোসিয়েশনের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ, সরকারী-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পূর্বাহ্ণে সকাল ১০ টায় রসায়ন বিভাগের শিক্ষক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের সমন্বয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। দুইদিন ব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, স্মৃতি চারণ, সেমিনার, র্যাফল ড্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।