© ফাইল ফটো
পরীক্ষায় জালিয়াতিতে যুক্ত থাকায় দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হওয়ায় ছয় বছর পর সাজা পেল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই শিক্ষক। জালিয়াতিতে যুক্ত শিক্ষক সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদারকে বহিষ্কার করা হয় ও সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথকে সতর্ক করার পাশাপাশি আগামী তিন বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
জানা যায়, ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংস্কৃত বিভাগের ৩য় বর্ষ (সম্মান) ৩০৮ নং কোর্সের পরীক্ষায় পর্যবেক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়া পরীক্ষার্থীর মূল খাতায় যুক্ত করা হয় অতিরিক্ত উত্তরপত্র। পরীক্ষার হলের বাহিরেই কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয় উত্তরপত্র লেখার সুযোগও। একাজটি করেন সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদার ও সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ।
এ ঘটনার সাথে জড়িত সংস্কৃত বিভাগের দুই শিক্ষক অধ্যাপক ড.সুপ্তিকণা মজুমদার ও সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেব নাথের বিরুদ্ধে পরীক্ষার কাজে অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ করেন উক্ত বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক (বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক) লিটন মিত্র। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৭ জুন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য। ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আবদুল গফুরকে। ২০১৮ সালের ২৭ জুন উক্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২০ তম সিন্ডিকেট সভায় চবির সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড.সুপ্তিকণা মজুমদারকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে গত ৭ মার্চ প্রদত্ত ব্যাখ্যা উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হলে ব্যাখ্যা বিবেচনা পূর্বক সন্তোষজনক না হওয়ায় তা গৃহীত হয়নি। তাই সিন্ডিকেট সভার ৩(ক)(i) নং সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ৪(১)(এফ) ধারা অনুসারে তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অপরদিকে একই সিন্ডিকেট সভায় সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেব নাথকেও অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ প্রদান করা হলে গত ৪ মার্চ প্রদত্ত ব্যাখ্যা উপাচার্য বরাবর জমা দেওয়া হয়। ব্যাখ্যায় অভিযোগ স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ সতর্কতার সহিত পালনের অঙ্গিকার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ৪(১)(এ) ধারানুসারে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি আদেশপত্র ইস্যুর তারিখ থেকে আগামী তিন বছরের জন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কেএম নূর আহমেদ ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার শামসুল আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশপত্রে ঐ দুই শিক্ষকের বহিষ্কার ও পরীক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার বিষয়ে জানান৷ আদেশপত্রে চবি কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধির ১৫(বি) ধারা অনুসারে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।