উপাচার্য সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন © এ এইচ আজহার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে নিয়োগের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে গত ৯ মার্চ চবির আট সিন্ডিকেট সদস্যের বিবৃতি নিয়ে এবার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন চবি উপাচার্য। রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপচারিতায় এক লিখিত বক্তব্যে উপাচার্য ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ তুলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে আটজন শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এরমধ্যে গবেষণায় জালিয়াতি, অনৈতিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, ছাত্রসংগঠনের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টির মতো ন্যক্কারজনক অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে। এছাড়া জামায়াত-শিবিরের এ্যজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করায় তারা আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু চেয়ারের বিরোধিতা করে আসছে।
বক্তব্যে চবি উপাচার্য আরো বলেন, গত ৭মার্চ বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা না নেওয়ার শর্তে আমি এ পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে গুটিকয়েক শিক্ষক গণমাধ্যমে নেতিবাচক, মিথ্যা ও অপ্রীতিকর তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন। তারা বঙ্গবন্ধু চেয়ার পদে আমার যোগদান মেনে নিতে পারছেন না। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে প্রচলিত সবধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান আমি বন্ধ করে দিয়েছি। এ কারণেই আমার বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষকসহ কুচক্রিমহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
শর্ত সাপেক্ষে (বঙ্গবন্ধুর গৌরবময় জীবন, রাজনীতি, আদর্শ ও কীর্তি নিয়ে একাধারে গবেষণা/লেখালেখির জন্য) 'বঙ্গবন্ধু চেয়ার' পদে নির্বাহী কমিটি আমাকে মনোনীত করেছে। আমাকে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেয়। এ সুপারিশের ভিত্তিতে ৭মার্চ আমি উক্ত চেয়ার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করি। এ পদে যোগদান বিষয়টি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় ১৯৭৩ এর অধ্যাদেশে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী রিপোর্ট করা হবে।
তিনি বলেন, চবিতে বঙ্গবন্ধুর অফিসিয়াল ছবি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। আমি দায়িত্বভার নিয়েই বঙ্গবন্ধু চত্বর তৈরি করেছি। বঙ্গবন্ধু পরিবারের স্মৃতি রক্ষার্থে শেখ কামাল জিমনেশিয়াম, শেখ রাসেল স্মৃতি পার্ক, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেছা হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জননেত্রী শেখ হাসিনা হল, বঙ্গবন্ধু উদ্যানসহ আরো অনেক স্থাপনা তৈরী করে দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো স্বজনপ্রীতি করিনি। আমার কোন আত্মীয়কে চাকরি দেয়নি। শুধু কাজ করেছি বিশ্ববিদ্যালয়, দেশ ও জাতির স্বার্থে। ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। তখন থেকেই আমার লেখা লেখি শুরু। আমি ছাত্র জীবন থেকেই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করে আসছি।
উপাচার্য আরও বলেন, যে সময়ে তারা বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে ভয় পেত, সেই সময় থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে এ উন্নয়ন অনেকে মেনে নিতে পারছেনা। বঙ্গবন্ধু কন্যা ক্ষমতায় আছে বলেই অনেকে লেবাস ধরেছে। তাদের পুরোনো রুপ কারো অজানা নয়। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক বিষয়গুলো মেনে নিয়েই আমি এই চেয়ারে অধিষ্ঠিত হয়েছি।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিবৃতি প্রদানকারী সিন্ডিকেট সদস্য ও লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী এস এম খসরুল আলম কুদ্দুসী জানান, উক্ত পদে যোগদানের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য উনি সেটা পূরণ করেননি। তাছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে যেসমস্ত অভিযোগ দেখানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন। আমরা শীঘ্রই প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে উক্ত বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে তুলে ধরবো।
এদিকে হলুদ দলের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, সিন্ডিকেট সদস্যের ৩৩জনের মধ্যে মাত্র ৮জন বিবৃতি দিয়েছে। বাকি ২৫জন বিবৃতির বিষয়ে অজানা। তারা নিজেদের অন্যায় গুলোকে ধামাচাপা দিতে বিতর্ক শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত বঙ্গবন্ধু চেয়ারের নীতিমালা পর্যালোচনা করে ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর চবির ৫১০তম সিন্ডিকেট সভায় বঙ্গবন্ধু চেয়ারের অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন, রাজনীতি, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে অধ্যাপক সমমর্যাদা সম্পন্ন একজন বিশিষ্ট গবেষক বঙ্গবন্ধু চেয়ারে অধিষ্ঠিত হন। তিনি অধ্যাপকের সমান বেতন-ভাতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সুবিধা পান। এক বছরের মেয়াদ হলেও ক্ষেত্র বিশেষে তা দু’বছর করার সুযোগ রয়েছে।
নির্দেশনা মোতাবেক কমিটি ২০১৮ সালের ৭ মে ও ৩ সেপ্টেম্বর এবং চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি তিন দফা বৈঠক করেন। সর্বশেষ সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে পূর্ণাঙ্গ একটি নীতিমালা সিন্ডিকেটে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। ওই সভায় নীতিমালা অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। একইসাথে এ পদের জন্য উপাচার্যের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু সুপারিশকৃত ওই সভায় কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরিন আখতার উপস্থিত ছিলেন না। ফলে সভার সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী।
গঠিত কমিটির তিনদফা প্রস্তাবনা ও কার্যক্রম ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর চারুকলা ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত ৫২০তম সভায় রিপোর্ট আকারে তুলে ধরেন। এক্ষেত্রে বিষয়টি সিন্ডিকেটের এজেন্ডা না করে রিপোর্ট হিসেবে আনায় দুই সিন্ডিকেট সদস্য নোট অফ ডিসেন্ট দেন। পরবর্তীতে ৭মার্চ উক্ত চেয়ারের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন উপাচার্য।