চবি ছাত্রীক হুমকি

সাত বছরে ২৮ গার্লফ্রেন্ডকে... ছেড়েছি

১০ মার্চ ২০১৯, ০৪:১৮ PM

© টিডিসি ফটো

ফেসবুক নাম আরাফাত আব্দুল্লাহ। ছদ্মনাম মধ্যরাতের অশ্বারোহী। ফেইসবুক তাঁর ফলোয়ার প্রায় ১৫ হাজার। যদিও আইডিতে তাঁর নিজের কোনো ছবি পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি কোনো জীবন বৃত্তান্ত। জানা যায়নি তিনি কোথায় পড়েন বা কী করেন। শুধু চবির রেলস্টেশনের পাশের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লেখা সাইনবোর্ডের একটা ছবি রয়েছে।

তবে আইডিতে একবার ঘুরে আসলেই জানা যাবে অনেক অজানা সব শিক্ষনীয় ঘটনা। আইডি চেক করে দেখা যায় অধিকাংশ লেখাতে মানুষের লাইক, লাভ ইত্যাদি রিঅ্যাক্ট হাজার ছাড়িয়ে গেছে।দেখলেই আঁচ করা যায় তিনি একজন লেখকও। কিন্তু লেখালেখির পাশাপাশি তিনি যে মানুষকে বেশ শাসাতেও পারেন, সেটা নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। 

অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল আর হুমকির শিকার বর্ষা মজুমদার অনন্যা চবির অর্থনীতি বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী। গত ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসে ফেইসবুক, মেসেঞ্জারে পাওয়া একগাদা অশ্রাব্য গালাগালের স্ক্রিনশট নিয়ে বর্ণনা করেছেন নিজের হয়রানির কথা। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এই আচরণ তিনি পেয়েছেন মোটামুটি একজন জনপ্রিয় ফেইসবুক ব্যবহারকারীর কাছ থেকেই। আর তিনি হলেন আরাফাত আব্দুল্লাহ ওরফে মধ্যরাতের অশ্বারোহী।

কিন্তু এমন জনপ্রিয় আইডির মানুষটা হঠাৎ কেন এত হিংস্র হয়ে গেলেন? নেপথ্যে কি রয়েছে সেটা না হয় বর্ষা মজুমদারের মুখ থেকেই শোনা যাক— বর্ষা মজুমদার গত ৮ মার্চ নিজের হয়রানির বর্ণনা দিয়েছিলেন নিজের আইডিতেই। যেটা মোটামুটি অনেকেই শেয়ার করেছিলেন। সাধারণত অন্য যেকোনো শিক্ষার্থী হলে হয়তো এমন হয়রানি আর অপমানের পর দমে যেতেন। কিন্তু বর্ষা দমে যাননি। বরং জনপ্রিয় ওই ফেইসবুকার অশ্বারোহীর মুখোশটা সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।

বর্ষা পুরো ঘটনার বর্ণনার পাশাপাশি আরাফাত আব্দুল্লাহর করা মেসেজ এবং কমেন্ট বক্সের অশ্রাব্য গালাগালের স্ক্রিনশটগুলোও সবার সামনে তুলে ধরেছেন। অন্যথায় কারো হয়তো জানাই হতো না কথিত অশ্বারোহীর সাত বছরের মাস্তানির ইতিহাসটা। জানা হতো না ২৮টা মেয়ের সাথে করা অপকর্মের কথাও। বিষয়টি এতটা নিশ্চিত হয়ে বলতে পারার কারণ, আরাফাত আব্দুল্লাহর নিজের মুখের কথা ছিলো এসব। নিজের শক্তি প্রমাণ করতে গিয়ে কিছু কথা হয়তো মুখ ফস্কে বের হয়ে গেছে। সেটাই এখন ডকুমেন্ট। 

বর্ষা মজুমদারের স্ট্যাটাসটা ছিলো এমন— আসুন, আপনাদের সবার প্রিয় আরাফাত আব্দুল্লাহ ওরফে মধ্যরাতের অশ্বারোহী সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেই। ঘটনার সূত্রপাত— আরাফাত আব্দুল্লাহ নারীদিবসে নারী নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল। ঐ স্ট্যাটাসটা আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা কেউ একজন শেয়ার দিয়েছিলো। আমি সেখানে ‘হা হা’ দিতে গিয়ে অশ্বারোহী’র স্ট্যাটাসে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টটা পড়ে যায়।

তারপর আরাফাত হয়তো প্রতিশোধ প্রবণ হয়ে আমার একটা স্ট্যাটাসে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলো। তাই আমি তাকে কমেন্টে মেনশন করলাম (কারণ, সে আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও নেই আর আমি তাকে চিনিও না)।

যাই হোক কিছুক্ষণ পর সে আমাকে একটা মেসেজ দিলো ‘আপু একটা হা হা নিতে পারলেন না!’ মেসেজ রিকুয়েস্ট পাওয়ার পর সেটা ওপেন করতে যতটুকু সময় লেগেছে ততক্ষণে সে আমাকে দ্বিতীয় মেসেজটা দিয়েছে। সেটা ছিলো অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালে ভরা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আপু থেকে মাগী হয়ে গেলাম। এরপর আমি কোনো রিপ্লাই দেয়ার আগেই সে আমাকে মেসেঞ্জার থেকে ব্লক করে দেয়। 

এর ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে সে তার ওই স্ট্যাটাসে আমাকে মেনশন করে। তারপর সবার সামনেই আমাকে গালাগাল করতে থাকে। আমি কমেন্টের একটা রিপ্লাই দেয়ার পরপরই সে কমেন্ট সিস্টেম বন্ধ করে দেয়। এরপরে বেশ কয়েক লাইনের কয়েকটা কমেন্টে সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। 

তবে সর্বশেষ কমেন্টে সে নিজের গুণকীর্তন, ক্ষমতা এসব তুলে ধরেন। সেটা ছিলো এমন ‘শোন, একটা কথা ক্লিয়ার করে বলি। আমি পাক্কা হারামি চিজ। তারপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল....। কিছু বলতাম না তোরে, যদি তুই আমাকে তোর কমেন্টে মেনশন না দিতি। শোন, লাইফে ৭ বছর গুন্ডামী করে আসছি। ২৮টা গার্লফ্রেন্ড... ছেড়ে দিয়েছি। দ্যা কিং ইজ হিয়ার।’

এছাড়া অন্য কমেন্টগুলোতে ছিল অশ্রাব্য সব গালাগাল। যেগুলো বেশ দৃষ্টিকটু হওয়ায় তুলে ধরলাম না। স্ট্যাটাসের শেষের দিকে এসে বর্ষা সবার উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আমার দোষ? আমি তার স্ট্যাটাসে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলাম এবং আমার স্ট্যাটাসে তাকে মেনশন করেছি এতটুকুই। হ্যাঁ, হয়তো এমন আরাফাতের অনেক ক্ষমতা থাকতেও পারে। তাই যারা আরাফাত কে চিনেন না, তাদের জানিয়ে রাখি, তিনি ৭বছর মাস্তানি করেছেন। এবং ২৮টা মেয়ের সাথে অপকর্ম করে ছেড়ে দিয়েছেন। সেটা তিনি বেশ গর্বের সাথেই বলেছেন। তবুও নিন, আপনাদের প্রিয় মানুষটার পেছনের চেহারাটা একটু দেখে নিন’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ষা মজুমদার দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আরাফাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাস পড়লেই বুঝা যায় সে নারীকে কতটুকু নিচে নামাতে পারে। এদের কারণেই মেয়েরা কখনো হয়রানির স্বীকার হয় আবার কখনো উপরের চেহারা দেখে ফাঁদে পড়ে। তারপর অঘটন গুলো ঘটে। সে কেবল আমার সাথেই যে এমন করেছে এমনও না। বিভিন্ন সময় কমেন্টে, মেসেজে অনেককেই হেনস্তা করেছিলো। যা আমি স্ট্যাটাসটা দেয়ার পরে জানতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এ ধরণের শিক্ষিত ভদ্রবেশি মানুষ যদি এমন কথা বলে তাহলে আমরা কোথায় নিরাপদ? এমনকি আমাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে। যদিও সেটা সরাসরি না। বরং সোহাইল রহমান নামে একটা আইডি থেকে আমাকে মেসেজ দিয়ে বলা হয়, ‘আপনি আরাফাত আব্দুল্লাহকে চিনেন না। স্ট্যাটাসটা ডিলেট করুন, অন্যথায় সমস্যা হবে’। এ ঘটনায় আমি খুব শঙ্কিত। তাই আমার সাথে যদি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এর জন্য আরাফাত আব্দুল্লাহ দায়ী থাকবে। এই ব্যাপারগুলো যদি আমরা এখনই প্রতিরোধ না করি তাহলে ভবিষ্যতে এর ফলাফল আরও ভয়াবহ হবে। 

ট্যাগ: চবি
বাবার গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে অপহরণ, দুদিনেও ব…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের সমালোচনা করায় ডিবি পরিচয়ে এক্টিভিস্ট আটক, মৌন সমাবে…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেলে ছাত্রদলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ২
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মেস কেয়ারটেকারকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে মারধর, মোম গলিয়ে পোড়ানো হ…
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
এক জেলায় পৃথক ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু, নিখোঁজ এক
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
তিতুমীর কলেজে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬