রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষার্থীকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে দশ হাজার টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের চার নেতার বিরুদ্ধে। এর আগেও অভিযুক্ত একজনের বিরুদ্ধে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে শাফিউর। ঘটনার তিন মাস পার না হতেই আবারও তিনিসহ ৩ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে জিম্মি করে চাদা আদায়ের অভিযোগ।
গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি চাওর হয়।
ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অন্যদিকে অভিযুক্তরা হলেন- শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুরঞ্জিত প্রসাদ বৃত্ত, সহ-সম্পাদক আরমান কায়সার আবির, শফিউর সাফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আল ওয়াসী জীম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্যমতে, সোমবার সন্ধ্যায় আবির, জীম ও সফি ইমরানকে বৃত্তের সাথে দেখা করতে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর তাকে মাদক ব্যবসায়ী ও ছাত্রদল কর্মী আখ্যা দিয়ে বিশ হাজার টাকা দাবি করে বৃত্ত। টাকা না দিলে তাকে মারধর ও পুলিশে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।
পরে সেখান থেকে ইমরান চলে আসার পর সফি, আবির ও জীম বৃত্তকে টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেয়। একপর্যায়ে সে দুই হাজার টাকা বিকাশ করে পাঠায় এবং বাকি টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে বৃত্ত তাকে মারধর করেন। পরে ইমরান তার কয়েকজন বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে দশ হাজার টাকা বৃত্তের হাতে দেন।
তবে অভিযুক্তরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি- ইমরানের সঙ্গে তার এক বন্ধুর ঝামেলা হয়েছিল। সেই ঝামেলা মিমাংসা করার জন্য ইমরানকে ডেকে কথা বলা হয়েছে কিন্তু মারধর ও চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ঘটেনি।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে শাফিউর শাফির বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সেসময় বিশ্বিবিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর হস্তক্ষেপে টাকা ফিরে পায় ওই শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। রাতে আমরা ওই ছেলেকে সাথে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।