© টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সাথে অধিকতর তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যা ছয়টায় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্যরা হলেন- সোহান খান, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আল নাহিয়ান খান জয় ও ইয়াজ আল রিয়াদ। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে রবিবার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের দু‘গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরসহ আহত আট শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী। দখলদারিত্ব, সন্ত্রাসমুক্ত ও ভয়-ভীতিহীন ক্যাম্পাস চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় ছাত্রলীগ কর্মীদের উভয় পক্ষের হাতেই দেশীয় অস্ত্র- চাপাতি, রড, স্ট্যাম্প, লাঠি ইত্যাদি দেখা যায়। ছয়টি ককটেল বোমা ফোটানোরও অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়।
জানা যায়, প্রেম গঠিত কারণে গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী তুহিনকে মারধর করে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা। পরে সম্পাদকের কর্মীরা একত্রিত হয়ে সভাপতি গ্রুপের কর্মী নয়ন ও রিফাতকে মারধর করে। তারই জের ধরে রবিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে সভাপতি গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা একত্রিত হতে থাকে। এমন সময় সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে দুই গ্রুপের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। উভয় গ্রুপ একে ওপরের দিকে ইট-পাটকেল ছুরে মারে এবং দেশীয় অস্ত্র দ্বারা উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টারিয়াল বডির সদস্য ও পুলিশ প্রশাসন বারবার সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই তাদের সংঘর্ষ বন্ধ করা যায়নি। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ ও সহকারী প্রক্টর মো. শাহীন মোল্লাসহ আট শিক্ষার্থী আহত হয়।
আহত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীরা হলো- জিওগ্রাফি বিভাগের (১২তম ব্যাচ) মামুন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রেজওয়ান ও ইশরাক, ফিজিক্স বিভাগের (১২তম ব্যাচ) মাহফুজ, একাউন্টিং বিভাগের (১৩তম ব্যাচের) খালেদ মাহমুদ সুজন ও বাংলা বিভাগের (১২তম ব্যাচ) প্রান্ত। এদের মধ্যে মামুনের পায়ের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় এবং খালেদ মাহমুদ সুজনের হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও সুমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি কিশোর কুমার সরকার ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল দিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাদের দফায় দফায় হামলায় শিক্ষার্থীরা ও রাস্তার পথচারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ তারা আরো বলেন, ‘অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারা করেছে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। দায়িত্ব-জ্ঞানহীন প্রশাসনের এই নির্বিকারত্বের ফলে ক্যাম্পাসে দিন-দিন সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব বাড়ছে এবং শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সন্ত্রাস-দখলদারিত্ব ও ভয়মুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আজকের বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলেছি। প্রতিবেদন অনুযায়ি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।