জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার আগে জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের (জকসু) নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের কোনো বিধান নেই। ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ছাত্র সংসদের বিধান যুক্ত করা হয়নি। তাই এখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে আগে আইনটি সংশোধন এবং ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র তৈরি করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হওয়ার পর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মতো জকসু নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে এই ছাত্র সংসদের জটিলতা একধাপ এগিয়ে আছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ছাত্রলীগ বলছে, প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করলে তারা অংশগ্রহণ করবে। তবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নির্বাচন আয়োজনের আগে ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের (জকসু) প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪ সালে। এরপর ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ছাত্র সংসদের ১০টি কমিটি নির্বাচিত হয়। স্বাধীনতার পরে ১৯৭২, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৭ সালে জকসুর আরও চারটি নির্বাচন হয়। ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।
জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নেতৃত্ব তৈরির জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন দরকার। জবির বর্তমান ক্যাম্পাস কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হবে। বর্তমান ক্যাম্পাসে অবকাঠামোর অনেক সংকট। বাস্তবতার নিরিখেই এই সময়ে জবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি অযৌক্তিক। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজন করলে তারা অংশগ্রহণ করবেন। এদিকে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী ছাত্র সংগঠন শিবিরের অংশগ্রহণ মানা হবে না বলে জানিয়েছেন একই শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল।
অপরদিকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জবি শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন হউক এটা আমরা চাই। তবে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারি দল যে কারচুপি করেছে তাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা। ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহ অবস্থান না থাকলে নির্বাচন আয়োজন অনর্থক।
বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের জবির সাধারণ সম্পাদক এমএন জুনায়েদ বলেন, তারা এখন ডাকসু নির্বাচনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনও যদি একদলীয় হয়ে যায়, তা হলে কোনো লাভ নেই।
একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে ছাত্র সংসদের আইন পাস করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানোর কথা ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানায় কর্তৃপক্ষ।
ছাত্র সংসদের নির্বাচন সম্পর্কে জবি উপাচার্য অধ্যাপক মীজানুর রহমান বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া উচিত। সব জায়গায় নির্বাচন হবে আর ছাত্র সংসদের ভোট হবে না, এটা হয় না। বর্তমানে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন একটা বাধ্যবাধকতার পর্যায়ে পড়েছে। তাদের প্রক্রিয়া শুরু হলে জবিতেও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
তিনি আরো জানান, ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেলে একই আদলে গঠনতন্ত্র তৈরি করে জবির একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে পাস করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে পাঠানো হবে।