জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বৃত্তি শাখায় অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সাপ্তাহিক কর্মদিবসে বৃত্তি শাখায় দায়িত্বরত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, দাপ্তরিক কাজে শিক্ষার্থীদের অসহযোগিতা ও বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচরণের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন বিভাগের বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।
তাদের অভিযোগ, বৃত্তি শাখার অনেক কাজ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে করানো হয়। এমনকি কাগজপত্র জমা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের কোন ধরণের স্বাক্ষর বা প্রমাণপত্র রাখা হয় না। কাগজ জমা দিয়ে আসলে সেটা টেবিলের একপাশে ছুড়ে ফেলে রাখে। এতে করে কাগজপত্র হারিয়ে গেলেও বৃত্তিশাখায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা সেটার দায়ভার নেন না। ফলে পুনরায় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এতে অযথা হয়রানিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, বৃত্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা না জানার দরুন আমি দেরিতে কাগজ জমা দেই। এ কারণে অফিস কর্মকর্তা আমার সাথে বাজে ব্যবহার করেন এবং পরবর্তী সব কাজ আমাকে দিয়ে করানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিস ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া এবং জমাও দিতে হয়েছে। যা বৃত্তি শাখার কর্মকর্তার দায়িত্ব।
শুধু ওই শিক্ষার্থীই নয়, একইভাবে আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীও হয়রানির অভিযোগ করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি বৃত্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় একদিনও দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে যথাসময়ে অফিসে পাইনি। প্রতিদিনই অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। বারবার ফোন দেয়া হলে পরবর্তীতে আসতে বলেন।
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, দায়িত্বরত কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না। বৃত্তির কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় আমিও হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাকে অনেকদিন ঘুরিয়ে তারপর কাগজ জমা নিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, আমরা কোন শিক্ষার্থী কাগজপত্র নিয়ে আসলে তাদের হয়রানির কথা চিন্তা করে জমা রেখে দেই। প্রকৃতপক্ষে কাগজপত্র জমা দেওয়াসহ সব কাজ বৃত্তি শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বৃত্তি শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা মাসুদ আহমদ বলেন, বৃত্তি শাখার দায়িত্বের পাশাপাশি আমার আরো অনেক কাজ থাকে। এখানে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাব আছে। তবে শিক্ষার্থীদের ফর্ম হারিয়ে ফেলা ও খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগকে তিনি অস্বীকার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বৃত্তি শাখায় তেমন কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। যদি কেউ অভিযোগ করে থাকে তাহলে তাকে নির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আমার সাথে দেখা করতে বলেন।