গণিত অলিম্পিয়াডে জবি উপাচার্য
বক্তব্য রাখছেন জবি উপাচার্য © টিডিসি ফটো
পুঁথিগত বিদ্যা নয়, গণিতই মানুষকে বুদ্ধিদীপ্ত করে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানাভাবে আমরা গণিতের প্রয়োগ করছি। আর গণিতের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তবিক জীবনকে আমরা প্রাণবন্ত করে তুলতে পারি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত গণিত অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। বাংলাদেশ গণিত সমিতি এবং এএফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন’র যৌথ উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয় গণিত বিভাগের আয়োজনে ‘১০ম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করেন ।পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি সুজ্জিত র্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠানের অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তেব্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘গণিত ছাড়া বিশ্বকে চেনার উপায় নেই। গণিত মানুষকে বুদ্ধিদীপ্ত করে। আপতত সত্য দেখে আমরা অনেক কিছু মেনে নেই, কিন্তু গণিতের পরিসংখ্যানগত তথ্যের মাধ্যমে মূল সত্যকে উদ্ভাবন করতে হবে। আর এজন্য গণিতের বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা (Analytical Ability) আমাদের অর্জন করতে হবে।’ এ সময় উপাচার্য গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ছাড়াও যাতে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী যারা গণিতে আগ্রহী ও পারদর্শী তাদের এ ধরনের অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পেয়ার আহম্মেদ, বাংলাদেশ গণিত সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ মোবারক হোসেন এবং কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ, বুয়েট এর অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ বক্তব্য প্রদান করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অলিম্পিয়াড কমিটির আহ্বায়ক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল। সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান।
প্রসঙ্গত, অলিম্পিয়াডে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসেফিক, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি, হামদার্দ ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশসহ মোট ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ( স্নাতক পর্যায়ে) ১৪৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ‘১০ম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০১৮ (ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চল)’ হতে দশ প্রতিযোগী বুয়েটে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হয়। এরা যথাক্রমে বুয়েটের সাদমান সাকিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. নিরব হোসেন, বুয়েটের শামিম সাদমান সাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাফিল ইবনে কামাল, বুয়েটের মো. সাব্বির রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুচি চাকী, বুয়েটের মুনজারীন রেজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তমা রানী সাহা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শোভা ইসলাম ও পার্থ সুত্রধর।