কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের(কুবি) নতুন সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস হচ্ছে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজাখোলা গ্রামে। সদ্য পাশকৃত ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পটির নতুন ভূমি অধিগ্রহণে বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ১.২ কিমি দূরে ২০০ একর জায়গা নিয়ে এ ক্যাম্পাস নির্মিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো: আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেজিস্ট্রার ড. মো: আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস বর্তমান ক্যাম্পাস থেকে ১.২ কিমি দূরে নির্মাণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে অধিগ্রহণের মতো পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এ জায়গা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।’
জানা যায়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রজেক্টের আওতাধীন ভূমি অধিগ্রহণে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ৭, ৯, ১২ এবং ১৩ নং মৌজার অন্তর্ভুক্ত জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ১২ ও ১৩ নং মৌজা রাজাখোলা গ্রামে পড়ছে।
এদিকে অখন্ড ক্যাম্পাসের দাবিতে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 
রায়হান হোসাইন নামে এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে বলেন, ‘অখন্ড কুবি চাই। কোনো টালবাহানা করে ক্যাম্পাস স্থানান্তর চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা চুপ করে বসে থাকবে না।’
আহমেদ সজীব নামে একজন বলেন, ‘১৬৫৫ কোটি টাকার উন্নয়ন করাতে চাইলে ভার্সিটির ডানে,বামে, সামনে-পেছনে অনেক সরকারি খাস জমি পড়ে রয়েছে। এখানে জমি ক্রয় করে ক্যাম্পাসকে অখন্ডিত রেখেই ১৬৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন।’
হাসান মোর্শেদ নামে একজন লিখেন, ‘আমি মোর্শেদ আলম কায়ান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, উন্নয়নের নামে আমি আমার সাধের কুবিকে খন্ডিত দেখতে চাই না! দাবি একটাই- অখণ্ড ক্যাম্পাস চাই।’
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ দিয়ে ‘অখন্ড কুবি চাই’ এমন স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ১১তম সভায় ১ হাজার ৬শ ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার দুপুরে প্রকল্পের মাস্টার প্লান প্রদর্শন করা হয়। প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে জানা যায়।