মোঃ তানভীর © টিডিসি ফটো
সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: তানভির। একসময় স্বপ্ন দেখতেন ডাক্তার হবেন। এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিও হয়ছিলেন। কিন্তু এরপরেই ঘটে জীবনের ছন্দপতন। কিডনি জটিলতায় হার মানে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন।
তানভির বলেন, ‘ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিকের প্রাক–নির্বাচনী পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। বুকে ও কোমরের দুপাশে ব্যথা। হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। অনেক পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। এতই অসুস্থ ছিলাম যে চূড়ান্ত পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে পারিনি।’
চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট তানভিরের অসুস্থতার খবরে সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আদরের ছোট ভাই অসুস্থ এটি যেন কেউই মেনে নিতে পারেননি। তানভীরের সুস্থতার জন্য ঢাকা অবধি ছোটা হয়। একসময় কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কারও সঙ্গে কিডনি মেলেনি তানভিরের। শেষে সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তাঁর জীবন প্রদীপ বাঁচিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত হলো। ফলে ডায়ালাইসিসই ভরসা এখন।
এসবের মাঝেই ২০২১ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তানভির। জিপিএ-৪ দশমিক ৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরীক্ষার পরপরই পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোনো মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা দিতে পারেননি তানভির। ভর্তি হন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগে।
বেচেঁ থাকার তাগিদে মো. তানভির এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিচতলায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্যানডর বাংলাদেশ ডায়ালাইসিস সেন্টারে সপ্তাহে দুটি ডায়ালাইসিস নেন। তানভীরের বাবা অসুস্থ, ভাইয়েরাও নিজেদের পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খান। তাই ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে নানা সাহায্য–সহযোগিতা নিতে হয়। পাশাপাশি অসুস্থ শরীর নিয়ে নিজেও টিউশনি করেন।
সাড়ে তিন বছর ধরে এভাবেই চলছে তানভিরের জীবনযাপন। অসুস্থতার কারণে ভেঙে গেছে স্বপ্ন। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাদ দেননি পড়ালেখা। তানভির এখনো স্বপ্ন দেখেন তাঁকে কেউ একটা কিডনি দান করবেন। ডায়ালাইসিস ছাড়া আর পাঁচটা মানুষের মত সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপন করবেন তিনি।