প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ দ্রুত সংসদে পাস করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায় তারা। সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হলে পুনর্গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তারা উল্লেখ করে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেয়েছে, যা ভবিষ্যতের মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে সরকার অধ্যাদেশগুলো বাতিল করে পরবর্তীতে নতুন বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা চারটি অধ্যাদেশ—‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএচআরসি) অধ্যাদেশ-২০২৫’ ও এর সংশোধনী এবং ‘গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৫’ ও এর সংশোধনী—সমন্বিতভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে দেশের মানবাধিকার কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে। এসব অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং কারাগার পরিদর্শনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়া কমিশনারদের অপসারণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গুমকে দেশের আইনে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রতিকার পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের গুম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নিখোঁজ ও নির্যাতনের ১,৫৬৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ। অধ্যাদেশগুলো এসব ঘটনার তদন্তের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
সংস্থাগুলো বলেছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অবশ্যই সরকার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকতে হবে এবং কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা উচিত নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তে পূর্বানুমতির প্রয়োজনীয়তা বা কমিশনার নিয়োগে সরকারি প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠানটির কার্যকারিতা ও স্বাধীনতা ব্যাহত করতে পারে।
তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, অধ্যাদেশগুলো বাতিল না করে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করা হোক এবং গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাদ দেওয়া হোক।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্টিকেল ১৯, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস, রবার্ট ও এথেল কেনেডি মানবাধিকার কেন্দ্র, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং ইউনাইটেড এগেইনস্ট টরচার কনসোর্টিয়াম (ইউএটিসি)। ইউএটিসির সদস্য সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রিভেনশন অফ টরচার, ইন্টারন্যাশনাল রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল ফর টরচার ভিকটিমস, ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, রিড্রেস এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টরচার।
সংস্থাগুলো আরও বলেছে, নতুন সরকার মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। অধ্যাদেশগুলোকে দুর্বল না করে দ্রুত পাস করার মাধ্যমে সরকার অতীত থেকে ভিন্নতা এবং মানবাধিকারসম্মত ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করতে পারে।