লোগো © সংগৃহীত
টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা (টিটিসি) দিনশেষে অন্ধকার নামলেই শুরু হয় মশার উপদ্রব। উপদ্রব অতিমাত্রায় বাড়ায়, মশার কামড়ে অতিষ্ঠ কলেজ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোর মাঝখানে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, বিভিন্ন জায়গার অপরিচ্ছন্ন ড্রেন ও জলাবদ্ধতা এবং প্রচুর ঝোপঝাড়, জঙ্গলের কারণেই মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যা নামলে মশার উৎপাতে ক্যাম্পাসের কোথাও আমরা শান্তিতে বসতে পারিনা। মশার কারণে আমরা অতিষ্ঠ। আমাদের ভয় হয়, মশার জন্য কোন রোগে আক্রান্ত হই কি না। এদিকে, প্রশাসনও মশা নিধনে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
আরও পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক মাসে ৫টি সাইকেল চুরি
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী শোভন হাওলাদার বলেন, ক্যাম্পাসে মশার উপদ্রব এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সন্ধ্যার পর গ্রুপ স্টাডি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া মশার কামড়ে তা সম্ভব হয় না। এছাড়া, আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতে পড়তে বসলে মশার জন্য ভালোমতো পড়তে পারি না।
আবাসিক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানান, হলের তৃতীয় তলা পর্যন্ত মশার উপদ্রব বেশি। যার কারণে তাদের পড়াশোনাসহ নানা কাজে সমস্যা হচ্ছে। হলগুলোর আশেপাশে প্রচুর ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও অপরিচ্ছন্ন জলাবদ্ধ জায়গাগুলোর কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে।
গনরুমে থাকা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, গণরুমের আশেপাশে প্রচুর পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব অনেক বেশি রাতে মশারি টানানোর পরেও ঠিকমতো ঘুমানো যায় না, আমরা সব সময় শঙ্কায় থাকি কখন আমাদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে হয়।
এছাড়াও দেখা যায়, সন্ধ্যার পর কলেজের রিডিং রুমে ও রুমে পড়তে বসা শিক্ষার্থীরা মশার উপদ্রবে ঠিক মতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ আলী ভূঁইয়া বলেন, ওয়েদার ইফেক্টের কারণে শীতের শুরুতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এ সময়টায় উচিত মশা নিধনের জন্য যে স্প্রে ও ওষুধ রয়েছে তা নিয়মিত প্রয়োগ করা এবং ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করছে। এছাড়াও, মশার কামড়ে নানা রোগের ভাইরাস ছড়ায়। তাই, মশার কামড় থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য মশার ওষুধ ছিটানো প্রয়োজন। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে এটাই প্রত্যাশা।
এবিষয়ে হল সুপার অধ্যাপক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।