বিচ্ছেদ বেদনায় ৯ তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ‘আত্মহনন’

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:১৮ AM

© সংগৃহীত

‘বিচ্ছেদের কষ্টটা সহ্য করতে পারেনি মেয়েটা। আমাদের সঙ্গে কথাটা বলতে পারেনি। আমি আমার মেয়েকে ভুলতে পারছি না। বড় লক্ষ্মী ছিল হাসিন।

‘আমার পায়ে সমস্যা। মারা যাওয়ার আগের দিনও আমাকে পায়ের এক্সরে করতে বলেছিল মেয়েটা। কিন্তু তার মনে যে এত অভিমান জমা ছিল তা কে জানত। জানেন, পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কত ভারী?’

কথা বলতে বলতেই চোখ ঝাপসা হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) ছাত্রী জান্নাতুল হাসিনের বাবা ইদ্রিস মেহেদীর। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা যারাই করছেন তাদেরকে ধরেই কেঁদে উঠছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ইদ্রিস মেহেদীর বাড়িতে ভিড় করেছেন স্বজনরা। হাসিখুশি মেয়েটার এভাবে চলে যাওয়া মানতে পারছেন না কেউই।

দিনের বেলা কোন রকম কেটে গেলেও রাতটা যেন শেষই হয় না ইদ্রিস মেহেদীর। মেয়ে হাসিনের নীল শাড়ি পড়া ছবিটা বুকে জড়িয়ে থাকেন। বাসায় কেউ গেলে তাকে ছবিটা দেখিয়ে বলেন, ‘আমার মেয়েটা রত্ন ছিল। আমি তাকে কখনো কোনো অভাব বুঝতে দেইনি। তারপরও কেন আমার সঙ্গে এমন হলো।’

মেয়ে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা জাহানরা বেগম। গত তিন দিন ধরে বিছানায় শুয়ে কেঁদে কেটেই দিন কাটছে তার। তিনি বলেন, ‘হাসিনের সঙ্গে যে ছেলেটির সম্পর্ক ছিল গত রমজানে সে বিয়ে করে। এতে ভেঙে পড়ে হাসিন। আমি তাকে যথেষ্ট সান্ত্বনা দিয়েছি। আমরা মনে করেছিলাম হাসিন সামলে উঠছে। সে স্বাভাবিক হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন করবে আমরা বুঝতে পারিনি।’

এর আগে (১ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার ধর্মসাগর এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছ থেকে হাসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ৯ তলা ভবন থেকে তিনি লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরদিন ওই ভবন সংলগ্ন একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, হাসিন একাই ওই ভবনে ঢুকছেন। এর ঠিক ১০ মিনিট পরে হাসিনকে ভবন থেকে নিচে পড়তে দেখা যায়। লোকজন ছুটে গিয়ে তার মাথা ও শরীরে পানি ঢালতে থাকে।

ভবনের নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান জানান, হাসিন ঢোকার সময় তিনি কোথায় যাবেন জানতে চেয়েছিলেন। এ সময় হাসিন সপ্তম তলায় যাওয়ার কথা জানান।

ইদ্রিস মেহেদীর বড় মেয়ে জান্নাতুল হেসান স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। ঢাকায় পড়ালেখার কারণে মেজো মেয়ে বড় বোন হেসানের কাছেই থাকত। ছোট মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমি কলেজে পড়ে। একমাত্র ছেলে তানভীর মাহতাব প্রিন্স কলেজের ছাত্র।

হাসিনের বাবা জানান, পড়ালেখার পাশাপাশি একটি ব্যাংকে ইন্টার্ন করছিল হাসিন। অফিস শেষে বাসায় ফিরতে প্রায়ই তার দেরি হতো। এ নিয়ে বড় বোনের সঙ্গে তার মনোমালিন্য ছিল। বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না যাওয়াটাও কষ্ট দিয়েছে হাসিনকে।

হাসিনের মৃত্যুর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বুধবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে জানাজা শেষে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

পদ্মায় গোসলে নেমে নিখোঁজ মেরিনের শিক্ষার্থী
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যতিক্রমী উপহার পেলেন মির্জা ফখরুল
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রোববার ইশতেহার ঘোষণা করছে না জামায়াত, জানা গেল নতুন তারিখ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
কোনো কোনো মহল নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
পে স্কেল কি হবে?
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ইসির অনলাইন কার্ড আবেদনে কয়েক হাজার সাংবাদিকের তথ্য ফাঁস 
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬