ইউআইইউতে ‘ভিশন ফর আ বেটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে © সংগৃহীত
ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ‘ভিশন ফর আ বেটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউট (যুক্তরাজ্য) এবং ইউআইইউ-এর অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেমিনারে ‘Vision for a Better Bangladesh: A policy roadmap for transformational governance’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ পলিসি পেপার উপস্থাপন করা হয়, যা ছয়টি দেশের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের যৌথ গবেষণার ফল।
এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে কার্যকর শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত ও প্রমাণভিত্তিক রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দ্য ফিউচার ইনস্টিটিউটের পরিচালক রাইয়ান আজমি। তিনি বলেন, এই নীতিপত্রের মূল লক্ষ্য হলো ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা, মর্যাদা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ভিত্তিতে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করা।
প্রতিবেদনটিতে শাসনব্যবস্থা সংস্কার, অর্থনৈতিক কৌশল, জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ডিজিটাল উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য স্বল্পমেয়াদি বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত নীতিমালা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘সাতটি সার্বভৌমত্ব’, যেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, খাদ্য, ডিজিটাল, সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কে এম কবিরুল ইসলাম, ইউআইইউ-এর অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কর্নেল আশরাফ আল দীন (অব.) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার মো. ওমর নাসিফ আবদুল্লাহ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাইখ মাহদি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী হত্যার ঘটনায় ডেইলি ক্যাম্পাসকে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ
সেমিনারে বক্তারা দুর্নীতি দমন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং বিচার বিভাগ ও সিভিল সার্ভিসে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সেমিনারের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, এ নীতিপত্রটি সরকারের জন্য একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করতে পারে। দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী এটি সংশোধন ও বাস্তবায়নযোগ্য একটি কাঠামো প্রদান করে। তারা এটিকে একটি চলমান আলোচনার সূচনা হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আরও নীতিগত উন্নয়নে সহায়তা করবে।