এনএসইউতে আন্তর্জাতিক আইনে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২২ PM
আন্তর্জাতিক আইনে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা শীর্ষক একটি আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক আইনে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা শীর্ষক একটি আলোচনা সভা © সৌজন্যে প্রাপ্ত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) অফিস অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (এসএইচএসএস) আইন বিভাগ এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ‘ল’ অ্যান্ড মুটিং সোসাইটি যৌথভাবে “আন্তর্জাতিক আইনে সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা” শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হলে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে  প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকায় অবস্থিত সিঙ্গাপুর প্রজাতন্ত্রের হাই কমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিজ এক্সেলেন্সি মিচেল লি। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এনএসইউ’র উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ। 

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এসএইচএসএস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম। তিনি অতিথির উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, একটি ছোট শহর-রাষ্ট্র হয়েও সিঙ্গাপুর শক্তিশালী আইনের শাসনের কারণে সফলতা অর্জন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় শক্তিশালী আইন থাকার কারণে সিঙ্গাপুর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে নবীন রাষ্ট্র হলেও আন্তর্জাতিক সালিশি ও মধ্যস্থতার কেন্দ্র হিসেবে দেশটি ইতিবাচক সুনাম অর্জন করেছে। 

মূল বক্তব্যে মিচেল লি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন শুধু ছোট রাষ্ট্র নয়, বরং বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতেও ছোট-বড় রাষ্ট্রগুলোর আচরণ অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা নির্দেশিত হয়। তিনি সিঙ্গাপুরের জাতিসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (UNCLOS) এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিবিএনজে চুক্তি প্রণয়নে ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিবিএনজে-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। 

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ‘টোল’ আরোপের বিষয়ে সিঙ্গাপুরের গৃহীত নীতির পদ্ধতির ওপর আলোকপাত করেন। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থায় সিঙ্গাপুরের সক্রিয় ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং জোট গঠন করে ছোট দেশগুলোও বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

আজিজ আল কায়সার বলেন, সিঙ্গাপুরের সাফল্য দেখায় কীভাবে একটি দেশ আইনগত উৎকর্ষতা ও কৌশলগত কূটনীতিকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জন করতে পারে। 

এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর আজ বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিচ্ছে, যার ভিত্তি হলো শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা। 

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ. আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বলেন, এই মতবিনিময় বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে পারস্পরিক উপকারী কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করবে। 

প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিঙ্গাপুর কীভাবে একটি ছোট রাষ্ট্র হয়েও বৈশ্বিক অবস্থান তৈরি করেছে—সে বিষয়ে বিভিন্ন নীতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। এছাড়া সমুদ্রসীমা বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধোঁয়াজনিত পরিবেশগত সমস্যার মতো আন্তঃসীমান্ত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। 

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, পদ …
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ কবে?
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
সাংবাদিক সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে নাম ব্যবহার না করার আহ্বান…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে বছরে ৩০ লাখ টন ই-বর্জ্য, টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্ব…
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
৩৬৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে শোকজ
  • ৩০ জুলাই ২০২৬
ভারতে যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি তামিম, নেপথ্যে কী?
  • ৩০ জুলাই ২০২৬