ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি © সংগৃহীত
বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিশোরগঞ্জস্থ ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় বড় সাফল্য অর্জন করেছেন। গত রবিবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রকাশিত মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলে ইশা খাঁ ইউনিভার্সিটির ৪০ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
জানা গেছে, এবারের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের আইন স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের ১৪টি ব্যাচ থেকে মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী এই সফলতা লাভ করেছেন। ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত আইনজীবী তালিকাভুক্তি ও আয়কর পরামর্শক (আইটিপি) পরীক্ষায় প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা বাংলাদেশের অধস্তন আদালতসমূহে আইনজীবী (অ্যাডভোকেট) হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছন। বার কাউন্সিলের নীতি অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশের যেকোনো বার অ্যাসোসিয়েশন বা আইনজীবী সমিতিতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে হবে।
বিভাগের শিক্ষার্থী ও সদ্য তালিকাভুক্ত হওয়া আইনজীবী সামিয়া হেলাল জ্যোতি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, সদ্য তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার মুহূর্তে আমার মনে মিশ্র অনুভূতি কাজ করছে। এটি কেবল একটি পেশা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরে আমি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আমার এই অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ। এই সাফল্যের প্রকৃত ভাগীদার আমার বাবা-মা। আমার প্রতিটি পদক্ষেপে তাঁদের নিঃস্বার্থ সমর্থন, দোয়া এবং অসীম ধৈর্য্য না থাকলে আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। আমি যেন আমার পেশাগত জীবনে সততা বজায় রাখতে পারি এবং বিচারপ্রার্থী মানুষের ভরসার প্রতীক হতে পারি, সেজন্য আপনাদের সকলের দোয়া প্রার্থী।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিভাগের প্রধান রমা দাস দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের এ সাফল্য নিঃসন্দেহে তাদের ব্যক্তিগত অধ্যবসায়, মেধা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার চুড়ান্ত স্বীকৃতি; একই সঙ্গে এটি আমাদের আইন বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।
তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের নবীন আইনজীবীরা সততা, ন্যায়বোধ, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশ ও সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সর্বোপরি আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য বিভাগের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিল আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে বছর ২৫ এপ্রিল ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় ৪০ হাজারেরও অধিক অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ১০ হাজার ৯২৯ জন উত্তীর্ণ হয়ে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮ হাজার ৮২১ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত হয়ে ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ১৩ ও ১৪ মার্চ চূড়ান্ত ভাবে উত্তীর্ণ হন ৮,৫,৯৯ জন এবং নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতার জন্য ২৩ জনের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।